মারায়ং তং ক্যাম্পিং

বিশেষ প্রতিনিধি

0

মারায়ং তং (Marayan Tong) বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলার প্রায় ১৬৫০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়। সুউচ্চ এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও এক সুবিশাল মূর্তি। খাড়া পাহাড়ের বুক চিরে যাওয়া ইটের রাস্তা দিয়ে উঠার সময় পৃথিবীর আকর্ষণ শক্তির প্রভাবটা ভাল মতই লক্ষ করতে পারবেন।

আবাসিক থেকে প্রায় ২ ঘন্টা পায়ে হাঁটার পর মিলবে প্রকৃতিরঞ্জন এই দৃশ্য যেখানে সাপের মত এঁকেবেঁকে বয়ে চলা মাতামুহুরি নদী, সন্ধ্যার আকাশে পাহাড়ের বুকে মাথা গুঁজে হারিয়ে যাওয়া রক্তিম সূর্য আর সকালে মুক্ত মেঘেদের উড়ে বেড়ানোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। যা আপনাকে হেঁটে কষ্ট করে পাহাড়ে উঠার ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে যথেষ্ট।
কথায় আছেনা, কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে!

মারায়ং তং

মারায়ং তং পাহাড়কে ঘিরে চারপাশে রয়েছে ত্রিপুরা, মারমা, মুরং সহ বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ের স্তরে স্তরে গড়ে উঠা আদিবাসীদের বসতি পাহাড়ী সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। এখানকার অদিবাসীরা জীবিকার জন্য পাহাড়ের উপর নির্ভরশীল।

যেভাবে মারায়ং তং যাবেন –

আপনার সুবিধামত দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কক্সবাজারগামী বাসে উঠে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। এরপর বাস/জিপ/সিএনজিতে করে আসতে হবে আলীকদম পর্যন্ত। লোকাল গাড়িতে গেলে ভাড়া ৭০ টাকা, আর জিপ রিজার্ভ করলে খরচ পড়বে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকার মত। একটা জিপে ১২/১৩ জন করে বসতে পারবেন।আলীকদম থেকে অটোরিকশা কিংবা পায়ে হেঁটে আবাসিক নামক জায়গায় যেতে হবে। যাওয়ার সময় অবশ্যই লোকাল গাইড ঠিক করে যাবেন।

রাত্রি যাপন –

দিনে গিয়ে দিনে চলে আসলে শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই উপভোগ করতে পারবেন না। মারায়ং তং এর সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে রাত্রি যাপন করতে হবে পাহাড়ের উপরে ক্যাম্প করে। তাই ক্যাম্পিং করে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে যাওয়াই ভালো।

আর যারা ক্যাম্পিং করতে ইচ্ছুক নয়, তারা আলীকদমে বা চকরিয়ায় আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন। চাইলে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার চলে আসতে পারেন, মাত্র ১ ঘন্টা পথ।

পরামর্শ –

যাওয়ার সময় সবাই নিজের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি করে নিয়ে যাবেন।

যারা বেশিক্ষণ হাঁটতে পারেননা তারা না যাওয়াই ভালো। ঘেমে গিয়ে স্লিপ খেতে পারেন, এমন স্যান্ডেল নিয়ে যাবেননা।

মারায়ং তং পাহাড়ে যেহেতু দোকান নাই বললেই চলে তাই সাথে করে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার নিয়ে যাবেন।

যেহেতু অনেকক্ষণ পায়ে হেঁটে যাবেন তাই স্যালাইন, গ্লুকোজ নিয়ে গেলে ভালো।

দুই তৃতীয়াংশ পথ পাড়ি দেওয়ার পর পানি নেওয়ার জন্য কিছু ট্যাংক পাবেন তাই একদম আবাসিক থেকে পানি নিয়ে যেতে হবেনা।

যাওয়ার সময় আর্মির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের থেকে অনুমতি নিয়ে যাবেন, না হয় রাতে নেমে আসতে হতে পারে।

সরাসরি বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে ক্যাম্পিং না করে তাদের ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার্থে একটু নিচে এসে আরো বড় জায়গা রয়েছে ক্যাম্পিং করার জন্য।

অনুমতি ছাড়া আদিবাসীদের ছবি এবং তাদের কোন কিছুতে হাত না দেওয়াই ভালো।

পাহাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করবেন না, যাতে এই জায়গায় ভ্রমণ করা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

 

আবুল হাসনাত

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়