লেখক মুসতাকের মৃত্যুতে প্রতিবাদ

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। গত বছরের ৬ মে রমনা থানায় র‌্যাবের করা মামলায় লালমাটিয়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

কারাগার থেকে সন্ধ্যায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে লেখক মুসতাকের মৃত্যুর ঘটনায় লেখক সমাজে তুমুল প্রতিবাদ উঠেছে। সাংবাদিক শরিফুল হাসান তার ফেজবুক পোস্টে লেখেন, এই যে লেখক মুশতাক আহমেদ মারা গেলেন এ দায় কার? খুন করেননি, চুরি করেনি, রাষ্ট্রের লুটপাট করেননি, দুর্নীতি করেননি, অপরাধ শুধু লিখেছিলেন। সেই লেখা সরকারের পছন্দ হয়নি। তাই গ্রেপ্তার, ৯ মাস কারাগারে এবং সেখানেই মৃত্যু!

আমি বলবো এই দায় এই সরকারের, এই দায় আমাদের পুলিশের, এই দায় আমাদের বিচার ব্যবস্থার, এই দায় রাষ্ট্রের। আফসোস এই দেশে খুনির জামিন হয়, হাজার কোটি টাকা লুটপাট করলে জামিন হয় কিন্তু কার্টুন আঁকলে বা লিখলে জামিন হয় না। এমনকি প্রচন্ড অসুস্থ হওয়ার পরেও।

চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী শিক্ষক আলী আর রাজী লিখেছেন,

হৃদয় বিদ্রোহ করেছে
জপে চলেছে একই কথা

“খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনি তোমার রক্ষা নাই” -আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো প্ররোচনামূলক শ্লোগান না দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক লিখেছেন,

” মুশতাক জেলে মারা গেছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিলো। তার অপরাধ ছিলো লেখালেখি করা, অন্য কিছু নয়”।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির বলেন,

‘রাষ্ট্রই এই লেখককে হত্যা করেছে। তার অপরাধ কি ছিল? তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। তিনি লেখার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। দশ মাস ধরে তাকে জামিন দেয়া হয়নি। আমরা দেখছি, পুরো দেশের মানুষ কেমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ একজন কৃষককে গলায় পা দিয়ে হত্যা করেছে।’