সৌরশক্তি নির্ভর দ্বি-স্তর কৃষি প্রযুক্তি

বিশেষ প্রতিনিধি

0

কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই দেশের বেশিরভাগ আবাদি জমিতে সারাবছর কোনো না কোনো ফসলের চাষাবাদ করা হয়। বিশ্বের উন্নত দেশ সমূহের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে আমাদের দেশেও প্রচুর পরিমাণে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে যার ফলে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

আমাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো কয়লা এবং খনিজ তেলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় আমাদের প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়। যার ফলে আমাদের খনিজ সম্পদের পরিমানও কমে আসছে। ফলস্বরুপ, আমাদেরকে বাইরের দেশের দারস্থ হতে হয়। বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। আমরাও আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য দ্বি-স্তর কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি প্রকল্প গ্রহন করলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার নির্ভর পাম্প, লাইট সহ নানা সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
আমরা জানি, সৌরশক্তি উৎপাদনের জন্য যেসব জমি ব্যবহৃত হয় সেখানে সাধারণত কৃষিকাজ করা হয়না। এক্ষেত্রে সৌরশক্তি উৎপাদনের জন্য মূলত অনুর্বর এবং অব্যবহৃত জমিই নির্বাচন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে অব্যবহৃত জমি কম থাকায়, আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একই জমিতে চাষাবাদ এবং সৌরশক্তি উৎপাদন প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা একটি মডিউল ব্যবহার করে যেখানে একটি স্বচ্ছ আয়নার উপরিভাগে কয়েকটি সোলার সেল স্থাপন করব, যাতে জমির ফসল পর্যাপ্ত পরিমান সূর্যালোক পায় এবং আমাদের সেলগুলোতেও শক্তি সংরক্ষিত হয়।
এইক্ষেত্রেও আমরা কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হই যেমন, সোলার সেল গুলোর ছায়া একটা নির্দিষ্ট অংশ ফসলে সুর্যালোক পৌছাতে বাধাদান করছে। কিন্তু, পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে ছায়াটি এক জায়গায় বেশিক্ষন স্থায়ী হয়না যা এই পদ্ধতির জন্য আশীর্বাদস্বরুপ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা খুব বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলেও আমাদের উন্নত কৃষিব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা পূরণ করতে পারবো। যেমন, সেচ দেওয়ার পাম্প চালানোর কাজে, আলোর মাধ্যমে পোকামাকড় দমনে, LED crop production পদ্ধতিতে ইত্যাদি।

সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং দ্বি-স্তর কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমাদের দেশের বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোসহ একর প্রতি ফলন বৃদ্ধি ও দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং ক্লিন এনার্জি পাচ্ছি যা আমাদের খনিজ সম্পদের উপর অনেকাংশে চাপ কমাতে সহায়ক। এটি খনিজ সম্পদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে কাজে লাগানো যেতে পারে।

মোঃ জয়নাল উদ্দিন
তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ,
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি