ঘুরে আসুন ময়মনসিংহ

বিশেষ প্রতিনিধি

0

কাজের চাপে বা কোন পরিস্থিতিতে মন হাসফাস করতে থাকলে, মনের মধ্যে জমে থাকা চাপ আর উদ্বিগ্নতা দূর করতে বেড়িয়ে আসুন কোথাও। বেড়িয়ে আসার পর নিজের মধ্যে নতুন করে উদ্যম খুঁজে পাবেন, মানসিন চাপ কমবে।

ঢাকা ও আশেপাশের অনেক জেলা থেকে অল্প সময়ে ট্রেন বা বাসে করে ময়মনসিংহ যাওয়া যায়। তাই একদিনের ভ্রমনের গন্তব্য হিসবে এই জেলা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী নগরী ময়মনসিংহ। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শশী লজ, জয়নুল আবেদিন পার্ক, ময়মনসিংহ জাদুঘর, হাসান মঞ্জিল, আলেকজান্ডার ক্যাসেল এবং মুক্তাগাছা জমিদার বাড়িসহ বেশকিছু দর্শনীয় স্থান।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:

মাসকান্দা বাস স্ট্যান্ড থেকে ইজিবাইকে করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে ১২০০ একর জায়গা নিয়ে এই ক্যাম্পাস। বিশাল আয়তনের এই ক্যাম্পাস পুরো ঘুরে দেখতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে।

তাই অল্প সময়ে মনোমুগ্ধকর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলের বাগান, বৈশাখী চত্বর, সবুজ মাঠ, কৃষি মিউজিয়াম, লিচু বাগান, আম বাগান, লেক, ফিস মিউজিয়াম, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত, নান্দনিক সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শশী লজ:

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করে এবার চলে আসুন ময়মনসিংহ শহরে। ব্রক্ষপুত্র ব্রীজ বাস স্ট্যান্ড থেকে অটো কিংবা রিকসা নিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন শশী লজ।

শশী লজ মহারাজা শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর অপূর্ব সৃষ্টি। এই রাজবাড়ির গেইট দিয়ে ভিতরে ঢোকার সময় সামনের চত্বরে মার্বেল পাথরের তৈরি গ্রীক দেবী ভেনাস যেন দু হাতে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ৯ একর জায়গার উপর ১৮ টি বিশাল বিশাল ঘর নিয়ে এই শশী লজ। পুরো ভবনের ফ্লোর মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত। লজের চারপাশে বিশাল বিশাল বৃক্ষগুলো কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

আলেকজান্ডার ক্যাসেল:

ময়মনসিংহ শহরের এক উল্লেখযোগ্য এবং পুরোনো স্থাপনা হলো আলেকজান্ডার ক্যাসেল। ১৮৭৯ সালে মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রসাদটিতে লোহার ব্যবহার বেশি করা হয়েছিল বলে এটি স্থানীয়দের কাছে ‘লোহার কুঠি’ নামে পরিচিত।

১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ময়মনসিংহ শহরে এসেছিলেন তখন তিনি এই প্রাসাদটিতে বেশ কিছুদিন ছিলেন। এছাড়াও লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশাসহ অনেক গুণী ব্যক্তির পদধূলি পড়েছে বলে প্রচলিত এই প্রাসাদটিতে।

আলেকজান্ডার ক্যাসেল ময়মনসিংহ

জয়নুল আবেদিন পার্ক ও জাদুঘর:

আলেকজান্ডার ক্যাসেল দেখার পর রিক্সা বা অটো নিয়ে চলে যান জয়নুল আবেদিন পার্কে। নদীর পাশের এই পার্কটির পরিবেশ আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দিবে। এই পার্কটিতে অনেকগুলো টং দোকান আছে যেখানে তেতুল চা, লেবু চা, রং চা,মালটা চা সহ অনেক ধরণের চা পাওয়া যাবে। আর নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সারি সারি নৌকার ব্যবস্থা আছে।

পার্কের এক প্রান্তে রয়েছে জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহশালা। ২০ টাকার টিকেট কেটে দেখতে পাবেন জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত সব ছবি।

জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা

মুক্তাগাছা রাজবাড়ি:

ময়মনসিংহ শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১০০ একর জায়গার উপর এই রাজবাড়ি। তৎকালীন মুক্তাগাছার জমিদার বৃটিশদের কাছ থেকে প্রথমে রাজা এবং পরে মহারাজা উপাধী পেয়েছিল বলে এই ভবনের নাম রাজবাড়ি। এই রাজবাড়িটির প্রবেশ মুখে রয়েছে বিশালাকার সিংহ দরজা। এই রাজবাড়িটিতে প্রায় ১০,০০০ বইয়ের একটি দূর্লভ লাইব্রেরি ছিল, যা বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমানে এর কিছু অংশ মুক্তাগাছা বাংলা একাডেমীতে রক্ষিত আছে।

 

মুক্তাগাছা রাজবাড়ি

এই নান্দনিক রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শনের সাক্ষী হয়ে আছে।

 

শাহ জাহান মনির
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়