জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সিরিয়া যুদ্ধের বীভৎস বর্ণনা

বিশেষ প্রতিনিধি

0

সিরিয়ায় গত দশ বছরে গৃহযুদ্ধের সময় আটক হওয়া লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক এখনো নিখোঁজ। আরো কয়েক হাজার ব্যক্তি হয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা নিরাপদ স্থানে থাকা অবস্থাতেই মারা গেছেন। জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বীভৎস নির্যাতনের বর্ণনা।

সিরিয়ার শিশু আয়লান কুর্দির নিষ্প্রাণ শরীর তুরস্কের সৈকতে পড়ে থাকার চিত্রটি নিশ্চয় ভুলেননি! প্রতিদিন নাম না-জানা কত আয়লান কুর্দিদের চলে যেতে হচ্ছে এর কবলে পড়ে।

এক দশক ধরে চলমান এই সংঘাতে কমপক্ষে তিন লাখ আশি হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে।

ভিকটিম ও ঘটনাগুলোর অনেক প্রত্যক্ষদর্শী পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন ‘কল্পনাতীত দুর্ভোগ’ হিসেবে, যার মধ্যে ছিলো মাত্র ১১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও।

আগে আটক ছিলেন এমন কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা মাসের পর মাস দিনের আলো দেখেননি, নোংরা পানি পানে বাধ্য হয়েছেন, খেয়েছেন বাসি খাবার এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সেলে তাদের রাখা হয়েছিলো। এসব সেলে টয়লেট সুবিধা যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না কোনো চিকিৎসা সুবিধা।

সরকারি কারাগারে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য অন্তত বিশটি উপায়ে নির্যাতন করা হতো।

এর মধ্যে ছিলো ইলেকট্রিক শক দেয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়িয়ে দেয়া, নখ ও দাঁত উপড়ে ফেলা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলিয়ে রাখা।

কমিশনের চেয়ারম্যান পাওলো পিনহেইরো বলেছিলেন,

“সরকারি বাহিনী একতরফাভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে যে এই সংঘাতের মূল উৎস,”

২০১১ সালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতির কারণে চারজনকে হাজতে নিয়ে নির্যাতন করে সরকারি বাহিনী। দেশটির ডেরা শহরের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে সরকারি বাহিনী গুলি ছুড়লে কয়েকজন বিক্ষোভকারী মারা যান। সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।

এরপর বিক্ষোভকারীদের দমানোর জন্য বাশার আল-আসাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ভয়ানক অপারেশন চালানো হয়। এতে মাত্র তিন মাসে ২০১১ সালের জুলাই নাগাদ প্রায় ১৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হন। এরপরের ঘটনাপ্রবাহ আরো জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।

সূত্র – বিবিসি বাংলা