৭ই মার্চের ভাষণ, বাংলাদেশী জনগণের জন্য কেনো এটি গুরুত্বপূর্ণ

0

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এ বছরেই। অর্থাৎ ২০২১ সালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর তিন লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে। মুক্তিপাগল বাঙ্গালীকে কেউ আটকে রাখতে পারেনি, পারেনি কেউ “দাবায়ে রাখতে…”

“সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না…” এমন ঘোষণাতে প্রতিটি মুক্তিপাগল মানুষের রক্ত গরম হয়ে উঠেছিলো সেদিন, বোনা হয়েছিলো স্বাধীনতার বীজ।

স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে নানান সময়ে নানান বিতর্ক হয়েছে। সেই বিতর্ক এখনও চলমান, সেদিকে না তাকিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যদি পরিপূর্ণভাবে পড়া না হোক অন্তত শোনাও হয় তাহলেই বোঝা যাবে যে এই ভাষণই ছিলো মূলত স্বাধীনতার ঘোষণা…

২৩ বছরের শোষণের ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে যে ক্ষোভ, দুঃখ এবং তার পাশাপাশি মুক্ত হবার যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ প্রতিটি মুক্তিকামী বাঙ্গালীর মনে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে সেটি আগ্নেয়গিরিতে রূপ নিয়েছিলো সেদিনের সেই ভাষণে।

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলো সেটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেদিন ঘোষণা এসছিলো খাজনা বন্ধ করে দেবার, সেদিন ঘোষণা এসছিলো আর যদি গুলি চলে সেই গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবার, সেদিন ঘোষণা এসছিলো মুক্তির।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের পূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান যত জায়গায়তেই ভাষণ দিয়েছেন সেখানে পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগানটি ব্যবহার করেছিলেন, ভেবেছিলেন অন্তত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ৭ই মার্চ তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন যে আর কথায় কাজ হবে না, এবার হবে প্রতিরোধ। সেদিনই তিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগানটি প্রত্যাহার করেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে পূর্ব বাংলার জনতার মনে যে তেজ, যে দেশপ্রেম জেগে উঠেছিলো দুঃখের বিষয় আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সেই তেজ, সেই দেশপ্রেম থেকে এই বাংলার জনগণ অনেক দূরে সরে গেছে। এখন “জয় বাংলা” শ্লোগান চাপা পড়ে গেছে রাজনৈতিক স্বার্থের আড়ালে। খোদ জাতির পিতার দলই আর সংকটে, পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুকরণীয় আদর্শ হলেও দুর্নীতি, লুটপাট, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আড়ষ্ট! আজ দেশে কোনো রাজনৈতিক দল পাওয়া যাবে না, যে দল অন্তত মনেপ্রাণে জনতার জন্যে কাজ করবে। এটি আসলেই খুব দুঃখজনক। কিন্তু সত্যি।

একটি দেশের চালিকাশক্তি সেই দেশের জনগণ, এখনও স্বপ্ন দেখাই যায়। যে দেশের জনগণ এক কথায় শোষণের বিরুদ্ধে লড়েছিলো, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলো, পরোয়া করেনি কোনো কিছুর…সেই দেশের জনগণ এখনও উদ্বুদ্ধ হতে পারে ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে। পাল্টাতে পারে নিজেদের, পাল্টাতে পারে দেশকে।

৭ই মার্চের ভাষণ বাজুক প্রতিটি বাঙ্গালীর প্রাণে। হৃদস্পন্দন হোক মুক্তিকামী স্বাধীনচেতা মানুষের।

জয় বাংলা।

 

মাহমুদুল হাসান সৌরভ 

লেখক ও সাংবাদিক