মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ঘর দিচ্ছে সরকার

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সহায়তা পরিকল্পনা

0

আর্থ-সামাজিক অবস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০,০০০ টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

‘বীর নিবাস’ নামের এই নান্দনিক ঘর গুলো দেশে ৮ টি বিভাগ ও ৬৪ জেলায় ৪ হাজার ১ শত ২২ কোটি টাকা খরচে নির্মিত হবে।

ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সরকারের প্রতিটি ‘বীর নিবাস’ তৈরিতে ব্যয় হবে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৮ টাকা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে উপহার হিসাবে তাঁদের এ সহায়তা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রতিটি বীর নিবাসে দুটি শোয়ার ঘর, একটি ড্রয়িংরুম, একটি খাবার ঘর ও একটি রান্নাঘর রয়েছে। ঘরগুলোর আয়তন ২৫ বাই ২০ ফুট। ঘরের বাইরে একপাশে একটি গবাদিপশুর জন্য পাকা ছাউনি, হাঁস-মুরগির জন্য দুটি ঘর, একটি টিউবয়েল ও একটি শৌচাগার রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রকল্পের প্রস্তাব রাখবে।

“প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা এবং শহীদ ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের বিধবা ও শিশুদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে সহায়তা করবে”

সরকার এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৪ হাজার বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন এই প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার অসচ্ছল যুদ্ধ বীরদের জন্য বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পেলে আবাসন প্রকল্পটি এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আসবে। ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার ঘোষণা দেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ঘর নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।

বর্তমানে প্রায় ২,০৫,২০৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই ভাতা পাচ্ছেন।

দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরষ্কার প্রাপ্ত সাত বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার প্রত্যেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং বীর উত্তম পুরষ্কার প্রাপ্তরা ২৫,০০০ টাকা, বীর বিক্রমকে ২০,০০০ এবং বীর প্রতীক ১৫,০০০ টাকা পান। বাকি বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যেকে ১২,০০০ টাকা পান।