কক্সবাজারে সুরক্ষা বাঁধ নাকি গলার কাঁটা!

বিশেষ প্রতিনিধি

0

কক্সবাজারে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ভাঙ্গনরোধে কলাতলি- নাজিরারটেক পর্যন্ত পরিবেশ ও পর্যটক বান্ধব বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরিবেশ রক্ষাকর্মীরা বলছেন এতে সৈকতের সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে, পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়াই উদ্যোগ নেয়া এটি একটি পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প।

দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকার চেয়ে কক্সবাজারে পর্যটকদের চাপ একটু বেশি, তাই তো এটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চোখে এড়ায় না। গড়ে উঠেছে হাজার খানেক হোটেল-মোটেল, অ্যামিউজমেন্ট ক্লাব, ওয়াটার পার্ক, বিশ্বমানের ফিস অ্যাকুরিয়াম সহ নানা কিছু।

২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধনের সময় কক্সবাজার – চট্টগ্রাম সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন। এরপর আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুরক্ষা বাঁধ ও সুরঙ্গ। এই নিয়ে কক্সবাজারে উন্নয়নের গতি দ্বিগুণ বেড়ে গেল বলা যায়।

১২ কিলোমিটারের সুড়ঙ্গ সড়কটি তৈরি করতে ব্যয় হবে ২০৫১ কোটি ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। কক্সবাজার এমনিতেও ব্যয়বহুল শহর, সুরঙ্গ সড়ক নির্মাণের পর, আরো বেশি ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকে। সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ীর উপর দিয়ে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে দাবি করেছেন পরিবেশ রক্ষাকর্মীরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি কক্সবাজার মানুষের জন্য গলার কাঁটা, কক্সবাজার বীচকে তারা পতেঙ্গা বীচে রুপান্তরিত করতে চায়। প্রজেক্টটি এখনো একনেক(ECNEC) সভায় অনুমোদন হয়নি। যা এখনো প্রস্তাব আকারে আছে, কোন পরিবেশ সমীক্ষা পর্যন্ত করা হয়নি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যে কোন স্থাপনা নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এমন চিন্তা (প্রকল্প) ভাগভাটোয়া আর লুটপাট ছাড়া কিছু নয়।
২০০৮ সালে একই পরিকল্পনা একনেকে উত্থাপন করা হলে তৎকালিক পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বন বিভাগের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি বাদ করে দেন।

পরিবেশ সমীক্ষা ও কক্সবাজার আরো ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হচ্ছে কিনা এই বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী দৈনিক জয় বাংলাকে বলেন, পরিবেশ সমীক্ষা এখনো করা হয়নি, এটি এখনো প্রপোজাল হিসেবে আছে, একনেকে এখনো এটা পাশ হয়নি। কক্সবাজার শহর ব্যয়বহুল হওয়ার কিছু নেই,কারো টাকা দিয়ে বীচে প্রবেশ করতে হবে এটি ভুল ধারণা।

 

ভবিষ্যৎ কক্সবাজার

এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী প্রথম আলোকে বলেন, ২০৫১ কোটি টাকার এই সড়ক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। গত ৪ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে যাচাইবাছাই কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উত্থাপনের জন্য প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। চলতি মার্চ মাসে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে আগামী এপ্রিল মাস থেকে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।