সুদের টাকা আদায়ের জন্য নারীকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন

বিশেষ প্রতিনিধি

0

সুদের টাকা আদায়ে বিলম্ব হওয়ায় নুর আয়েশা পটু (২৩) নামের এক নারীকে তার শাড়ি দিয়ে গাছে বেধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা হাফালিয়া কাটা মোরার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভিকটিম নুর আয়েশা বাদী হয়ে  চারজনের নাম উল্লেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা করেন।  পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

এক মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, গ্রামের রাস্তার ধারে ওই নারীকে তার পরনের শাড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এক যুবক তার চুল ধরে কিল-ঘুসি ও লাথি মারছে। একপর্যায়ের এক নারীও লাঠি হাতে উপস্থিত হয়। তিনিও লাঠি দিয়ে ওই নারীকে মারতে থাকেন। নির্যাতনের সঙ্গে গালাগালও করেন ওই নারী। পরে দুই-তিনজন নারী এসে বেঁধে রাখা নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখনও তাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পুরো সময় ওই নারীর বছর দেড়েক বয়সের সন্তান কাঁদতে থাকে।

ওই নারী জানান, তার স্বামী নলকূপ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। বছরখানেক আগে স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করান। সে সময় প্রতিবেশী শওকত আলমের কাছ থেকে সুদে চার হাজার টাকা ধার নেন।

“গত মাস পর্যন্ত সুদে-আসলে ১০ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এর মধ্যে আমি আট হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। বাকি ছিল আরও দুই হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার পরিশোধ করার কথা ছিল। পরিশোধ করতে না পারায় শওকত ক্ষেপে যায়। টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আমার পরনের শাড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে।”

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, নারীকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অভিযান চালানো হয়। শওকত পালিয়ে গেলেও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে শওকতকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়।আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।