রমজান, একের ভিতর সব!

0

পবিত্র রমজান ব্যবসার মাস! কি ঘাবড়ে গেলেন? ব্যবসায় তো! একটা ফরয আদায় করলে ৭০ টার সাওয়ার। একটি নফল কাজ করলে ফরযের সমান সাওয়াব! চারটি খানি কথা?

ওহ, শুধু এমনটা বললে হবে না, মুর্দার ওপিঠও রয়েছে। সারা বছর আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা চুরি করলেও রমজানে করে ‘ডাকাতি’। ব্যবসা একটি পবিত্র শব্দ। খোদ সৃষ্টিকর্তা এটিকে হালাল করেছেন। শুধু কি তাই? ব্যবসার মধ্যেই দিয়েছেন বরকতের ৯০ ভাগ! কিন্তু ব্যবসা শব্দটি এখন ট্যাবো হতে চলেছে। তাই একে ব্যবহার করলাম পূণ্যময় রমজানের ক্ষেত্রে।

যেদিন রমজানের চাঁদ দেখা যায় সেদিন অন্য রকম একটি আমেজ বিরাজ করে আমাদের দেশে, হয়ত  আল্লাহর রহমতের কারনে। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মিলন মেলা এই রমজান। যা এটিকে অন্যান্য সকল মাস থেকে আলাদা করেছে।

নামাজ তো আছেই এলো রমজান। বাকি থাকলো যাকাত আর হজ্জ। যাকাত দেওয়ার সুনির্দিষ্ট মাস বা সময় নেই। নেসাব পরিমাণ সম্পদের এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা যাকাত দেওয়ার জন্য রমজান মাসকেই বেছে নেন। আর অধিকাংশ মুসলিম এই মাসে যাকাত দেন।

বাকি থাকলো হজ্জ। প্রতি বছর তো লক্ষ লক্ষ মানুষ হজ্জ আদায় করেন। কিন্তু কয়জনের হজ্জ কবুল হয়েছে কে বা জানে? কিন্তু রমজানের শেষ দশদিনে ইতেকাফ করলে আর সেটি যদি কবুল হয় তাহলে, ১ টি মাকবুল হজ্জ আর ১ টি ওমরার সাওয়াব দিবেন খোদা তায়ালা।

এইতো গেলো পঞ্চ স্তম্ভের কথা। ৩০ রোজাকে ভাগ করা হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এই তিনটি ভাগে।

রমজান কোরআনের মাস এবং শেষ দশদিনের বেজোড় ৫ রাতের কোন একটাতেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত ” লাইলাতুল ক্বদর”।

যারা সারা বছর নামাজ পড়ে না, তারাও সাহরী খেয়ে ফযরের জামায়াতে শরীক হয়। অন্যান্য নামাজ তো পড়েই সাথে তারাবির নামাজে ইমাম সাহেবের পিছনে খতমে কোরআন শেষ করে। যে আলসেমির কারণে শত চেষ্টা করেও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারে না শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে সেও এই রমজান মাসে সুযোগটা লুফে নেয়। গোটা বছরেও যার একটা কোরআনের খতম হয় না, তারও কিন্তু এই রমজানে বেশ কয়েকটা খতম হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআন

যারা কোরআন তেলাওয়াত করতে জানে না তারা খতমে তালীমসহ বিভিন্ন যিকিরে মশগুল থাকে। যার হাত থেকে পানি ঝরে না, এমন কৃপণ ব্যক্তিও কিন্তু রমজানে হালকা দান-সদকা করেন। মোট কথায় মুসলমানের মুসলমানিত্ব ফুটে ওঠে এই রমজানে।

এই বার আসি ডাকাতদের কথায়। ৯০ শতাংশ  মুসলমানের দেশে সব ব্যবসায়ী তো ভারত আর চীনের না! খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম ব্যবসায়ীগণ পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট করে যখন দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে দেন তখন তারা ইসলাম সম্পর্কে তো দূরের কথা ইসলাম বা মুসলিম এই দুইটি শব্দের অর্থ জানেন কিনা খুব জানতে ইচ্ছে হয়। আমরা ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নাইবা রাখলাম। আমরা যদি অন্তত মুসলিম শব্দের শাব্দিক অর্থটা জানতাম এবং বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করতাম তাহলে আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্র অনেকাংশে পরিবর্তন হতো বলে মনে করি।

যুগে যুগে নবী রাসুল আলাইহিমুসসালাম গণ ব্যবসা করেছেন। ব্যবসা করছেন ইসলামের প্রথম খলিফা সিদ্দিকে আকবর (র:) সহ অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম। যুগে যুগে শরীয়তের ইমামগণ সহ আল্লাহর মকবুল বান্দাগণ এই পবিত্র কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। হায় আফসোস এই পবিত্র ব্যবসার আজ করুণ অবস্থা!

আসুন শুধু রমজানেই নয়। রমজানকে সারা বছর সুন্দরভাবে চলার পাথেয় হিসেবে নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো হালাল ব্যবসার প্রতিজ্ঞা করি।

মোঃ মাসুদ
শিক্ষার্থী
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়