কক্সবাজারে করোনায় মোট আক্রান্ত ৭৪১২, মৃত্যু ৮৮ জন, গ্রাম্যরা বলছে করোনা নেই!

0

গত একবছরে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার এই কঠিন ও দীর্ঘ সময়ে ৭ হাজার ৪১২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ২৫৮ জন। জেলায় টিকা গ্রহণকারীদের সংখ্যা ৩.৩৩ শতাংশ।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বের হতে পারছেনা বিশ্ব। সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে আবার বেড়ে চলেছে ভাইরাসটির দ্বারা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এর মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কার হলেও করোনা প্রতিরোধে তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছেনা।

প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ধাপে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮৭ জন। এর বিপরীতে কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ। টিকা পেয়েছে মোট জনসংখ্যার ৩.৩৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের মধ্যে টিকা পেয়েছে ৩ জনের বেশি।

কক্সবাজারে করোনার সংক্রমণের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলে বুঝা যাবে মানুষ এখনো স্বাস্থ্যবিধি পালন করছেন না। শহর পর্যায়ে তথাকথিত স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু উল্টো চিত্র গ্রামগুলোতে, সাধারণ মানুষ ভুলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকে আবার করোনার অস্তিত্ব বিশ্বাস করতেও চায় না।

প্রশ্ন করলে কড়া কন্ঠে একটি যুক্তি, এসব আমাদের হয়না, এসব শহরের বড়লোকদের জন্য। দেখেছেন এদিকে কেউ আক্রান্ত হতে!

তেমনি একজন কক্সবাজার উখিয়ার বাসিন্দা নুরুল হক, যুক্তি দিয়ে বসেছেন আমাদের এক নম্বর ওয়ার্ডে করোনায় কারো মৃত্যু হতে দেখেছেন?

কক্সবাজার জেলায় উখিয়া উপজেলায় এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, সুস্থ হয়েছে ৯৫১ জন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১৩২ জন। বলা যায় তুলনা মূলক কম, তবে তা সম্ভব হয়েছে সরকারে দূরদর্শী পদক্ষেপগুলোর কারনে। যথাসময়ে লকডাউন ও নিষেধাজ্ঞা না দিলে চিত্র ভিন্ন হতে পারতো।

টেকনাফে বছরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৯ জন, ৬৯৯ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে, সুস্থ হয়েছেন ৬৩৬ জন।

কক্সবাজার সদরে করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার তুলনায়। এখানে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৮ জন, সুস্থ হয়েছে ২৯৬২ জন। মৃত্যু বরণ করেছে ৪৬ জন।

রামু উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৯৩ জন, সুস্থ হয়েছে ৪৬৪ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ০৪ জন।

চকরিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৬৩৯ জন, সুস্থ হয়েছে ৫২৫ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ০৯ জন।

পেকুয়ায় করোনার আক্রান্ত হয়েছে ২৪৯ জন, সুস্থ হয়েছে ২২০ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ০২ জন।

কুতুবদিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১০০ জন, সুস্থ হয়েছে ৯২ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ০২ জন।

মহেশখালীতে করণ আক্রান্ত হয়েছে ৪৫২ জন, সুস্থ হয়েছে ৪০৮ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ২ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ৮৮ জন। এরমধ্যে ১০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী।