স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীন হলে ভয়াবহ হবে বাংলাদেশের অবস্থা !

0

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা প্রতিবেশী দেশ ভারতের। মৃত্যু ও শনাক্তের নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে প্রতিদিন। স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীন হলে ভারতের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে দেশের করোনা পরিস্থিতি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এশিয়া, ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লকডাউন দিয়েছে। তবে ভারত হাটছে ভিন্ন পথে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ভারতে সবকিছু চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। তার কারণ হিসেবে উঠে আসছে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর বিদেশি বহুজাতিক এবং দেশের বাণিজ্য লবির প্রবল চাপ।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশটিতে সোমবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১২ জনের। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অক্সিজেনের অভাব, সংকটকে আরো তীব্রতর করেছে।

ভারতের এই সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চরম অবৈজ্ঞানিক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতাকে দায়ী করছেন অনেকেই। গত বছর করোনা মোকাবিলায় যখন বিশ্বের ধনী, গরীব- সব দেশই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন প্রদীপ জ্বালানো, থালা বাটি বাজানোর মতো চরম অবৈজ্ঞানিক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিষয়গুলো মানুষের ওপর চাপিয়েছিলেন। কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভেতরে অসচেতনতা, কুসংস্কার তৈরি হয়েছে, সেটিই আজ ভারতকে চরম সংকটের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে বিশ্লেষকেরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে অন্যান্য দেশগুলো যখন সভা, মিছিল, মিটিং, অনুষ্ঠানের মত গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল তখন ভারত কুম্ভ মেলার মতো জমায়েতের অয়োজন করে। এ ধরণের গণজমায়েতের মাধ্যমে কোভিড দ্রুত ছড়িয়েছে দেশটিতে।

করোনা মহামারী চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও চলছে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আট দফায় ভোট গ্রহণ। ভারতের যেসব রাজ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়াবহ, পশ্চিমবঙ্গও তার একটি। পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৪৩,৯৫০ জন।

ভারতের মতো স্বাস্থ্যবিধি প্রতি উদাসীন হলে বাংলাদেশের অবস্থাও ভয়াবহ হতে পারে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা একশ ছুঁয়েছে। দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি ভারতের চেয়েও খারাপ হওয়ার আশংকা রয়েছে। কারন বাংলাদেশে ২০০ টন অক্সিজেন চাহিদার ১০০ টনই আসত ভারত থেকে যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

দেশে এসময়ে লকডাউন বিধিনিষেধ থাকলেও খুলে দেওয়া হয়েছে শপিংমল সহ সকল দোকানপাট। অনেক মলে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি, লক্ষ করা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।