৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

মামলা প্রত্যাহারে দাবী উখিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির

0

কক্সবাজার খুরুশকুলের পাহাড় কাটা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মাল্টিমিডিয়া ওয়েব পোর্টাল ‘দি টেরিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন) এবং স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকাসহ ৬ জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছেন এবি পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর কাশেম।

এতে আসামী করা হয়েছে টিটিএন এর প্রধান সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, বার্তা প্রধান তৌফিকুল ইসলাম লিপু, প্রধান প্রতিবেদক আজিম নিহাদ ও নিজস্ব প্রতিবেদক সানজীদুল আলম সজিব এবং স্থানীয় পত্রিকা ‘সমুদ্র কন্ঠের’ ২ জন সাংবাদিককে।

কক্সবাজারে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে প্রায় শতাধিক পাহাড় কেটে আসছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। পাহাড় কাটার ফলে ভূমি ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ও প্রতিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নিঃশেষ হচ্ছে বনাঞ্চল।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেও পাহাড় খেকো কর্তৃক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার।

দ্রুত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজারের নেতৃবৃন্দ। রিপোর্টার্স ইউনিটি উখিয়ার সভাপতি শরীফ আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিক মাহামুদসহ সকল নেতৃবৃন্দরা।

বিবৃতিদাতারা দাবী করেন, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে খুরুশকুলসহ জেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে সাবাড় করছে পাহাড়খেকোরা। মামলার বাদী জাহাঙ্গীর কাশেম একজন চিহ্নিত পাহাড় নিধনকারী। তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অপরাধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

তারা আরো বলেন, টিটিএনে প্রচারিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ তথ্যবহুল ও বস্তুনিষ্ঠ। শুধুমাত্র সাংবাদিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করার জন্য মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন এই ভূমিদস্যু। দ্রুত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি চিহ্নিত পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশে পত্রিকা বা বইয়ে লিখে কারো মানহানি করলে তার শাস্তি ৫০০ ধারায় দুই বছরের জেল এর বিধান রয়েছে।

যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মানহানির মামলা করে থাকেন, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুসারে শাস্তি দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।