কোরবানীর গোশত বন্টনের নিয়ম

বিশেষ প্রতিবেদক

0

আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য লাভের ও সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম কুরবানি। এ পন্থায় ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সর্বাধিক প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে হয়।

পশু কোরবানির ফলে অন্তর হবে পরিশুদ্ধ। আর এটাই হ’ল কোরবানির মূল প্রেরণা।

কোরবানি দেয়ার পর গরুর গোশতের বন্টন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোরবানির গোশত যদি সঠিকভাবে বন্টন করা না হয় তবে কোরবানি কবুলের শর্ত পূরণ হবে না। তাই মাংস বন্টনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

কুরবানির গোশত বন্টনের জন্য রাসুল (সা.)- যা করতেন সেটা হলো, কুরবানির গোশতকে তিনি তিনভাগে ভাগ করতেন। একভাগ গরিবদের দিতেন, আরেকভাগ আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে দিতেন ও হাদিয়া দিতেন আর একভাগ নিজেদের জন্য রাখতেন। সেই থেকে বলা যায়, কুরবানির গোশত বন্টনের ক্ষেত্রে তিনভাগ করা উত্তম। তবে এটি শর্ত নয়। একেবারে তিনভাগ সমান হতে হবে এমন কথা নেই।

আসুন জেনে নেই কিভাবে কোরবানির গোশত বন্টন করবেন।

১. কোরবানীদাতা নিজে খাবে এবং অন্যদেরকেও খাওয়াতে পারবে

২. ইচ্ছানুযায়ী প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের দান করতে পারবে।

৩. চাইলে সব গোশত সদকা করে দিতে পারবে।

৪. একতৃতীয়াংশ গরিবদের মাঝে সদকা করে দেয়া মুস্তাহাব।

৫. কোরবানীর গোশত বিক্রি করা যাবে না।

৬. কোরবানীর পশুর গোশত দ্বারা জবাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি দেয়া বৈধ নয়।

৭. অংশীদারের ক্ষেত্রে গোশত বণ্টনে সমতা রাখতে হবে।

৮. অনুমানের ভিত্তিতে গোশত বণ্টন বৈধ নয়। ওজন করে বণ্টন করতে হবে।

৯. গোশত বণ্টনে ইচ্ছাকৃতভাবে কমবেশি করলে সকলের কোরবানীই বাতিল হয়ে যাবে।

১০. তবে গোশতের সাথে হাড় চামড়া যুক্ত থাকলে সেক্ষেত্রে অনুমান করে বণ্টন করা বৈধ। এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কমবেশি হলে অবৈধ হবে না।

১১.উত্তম পদ্ধতি হলো, গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ ফকির মিসকিন ও পাড়া প্রতিবেশীকে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজকে, এক ভাগ নিজের জন্য রেখে দেয়া। এটা হলো মুস্তাহাব।

১২. অভিভাবক যদি শিশুর সম্পদ দ্বারা শিশুর পক্ষ থেকে কোরবানী করে, তাহলে ঐ কোরবানীকৃত প্রাণীর গোশত শুধু ঐ শিশু খেতে পারবে। পরিবারের অন্য সদস্যরা খেতে পারবে না। প্রয়োজনে এমন বস্তুর বিনিময় করবে, যা নিঃশেষ না হয়ে সরাসরি শিশুর উপকারে আসে। যেমন- কাপড়, মোজা, চাদর, জুতা ইত্যাদি । তবে নিঃশেষ হয়ে যায় । যেমন- টাকা, খাদ্যদ্রব্য, পানীয় ইত্যাদি দ্বারা বিনিময় করা বৈধ হবে না।‌