চামড়া ছাড়ানো এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

0

ঈদ উল আযহা বা ঈদ উল আজহা বা ঈদ উল আধহা, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি।  যা কুরবানির ঈদ নামেও পরিচিত।  ঈদুল আযহার অর্থ হলো “ত্যাগের উৎসব”। মুসলমানেরা ফযরের নামাযের পর ঈদগাহে গিয়ে দুই রাক্কাত ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করে ও অব্যবহিত পরে স্ব-স্ব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও উট আল্লাহর নামে কোরবানি করে। উক্ত কোরবানীতে থাকে গরিব,  মিসকিন এবং দরিদ্র মানুষের হক। যার একটি অংশ হলো জবাইকৃত চামড়ার অর্থ গরিবদের মাঝে দান করা।  আসুন জেনে নেই কিভাবে চামড়া ছাড়াতে এবং সংরক্ষণ করতে হয়।

সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানোর পদ্ধতিঃ

১. চামড়া ছাড়ানোর সময় প্রথমেই পশুর সামনের এক পা থেকে বুকের উপর দিয়ে অন্য পা পর্যন্ত লম্বালম্বিভাবে এবং পেছনের এক পা থেকে অন্য পা পর্যন্ত লেজের গোড়া হতে প্রায় ৪-৬ ইঞ্চি উপর লম্বালম্বিভাবে কাটতে হবে;

২. জবাইয়ের পর চামড়া আড়াআড়ি কাটার জন্য সূঁচালো মাথার ছুরি এবং চামড়া ছাড়ানোর জন্য অবশ্যই বাঁকানো মাথার ছুরি ব্যবহার করতে হবে;

৩. কোরবানির পশু জবাই এর পর রক্তমাখা ছুরি কোনভাবেই পশুর চামড়ায় মোছা যাবে না, এতে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে; এবং

৪. কাঁচা চামড়ার বড় ধরনের ত্রুটি (লেস-কাট) যা অসতর্কতা, অজ্ঞতা ও ভুল ছুরি ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে।

চামড়া সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ

১. চামড়া ছাড়ানাের পর লবণ দিয়ে সংরক্ষণের পূর্বে অবশ্যই চামড়ায় লেগে থাকা চর্বি, মাংস, রক্ত, মাটি এবং গােবর
ভালােভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে;

২. কাঁচা চামড়া ছাড়ানাের পর সংরক্ষণের জন্য (গরু-মহিষের ক্ষেত্রে চামড়া প্রতি ৭-৮ কেজি এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে
৩-৪ কেজি) লবণ প্রয়ােগ করতে হবে। লবণ এমনভাবে প্রয়ােগ করতে হবে যেন চামড়ার ফ্লেস সাইডের কোন অংশ
ফাঁকা না থাকে, লবণ সমভাবে চামড়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে;

৩. চামড়া ছাড়ানাের ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে অবশ্যই লবণ লাগাতে হবে; সংরক্ষণের জায়গা একটু উঁচু এবং ঢালু হতে হবে