চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের ৭০ ভাগের লাগছে অক্সিজেন সাপোর্ট

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীদের ৭০ ভাগেরই লাগছে আক্সিজেন সাপোর্ট। ৯৫ ভাগ রোগী নিম্নবিত্ত, মাক্স পড়ায় উদাসীনতা।

চমেকে ২৬৫ জন করোনা রোগীর উপর সমীক্ষা।
বর্তমানে নারী রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ভর্তি রোগীদের মাঝে পঞ্চাশোর্ধ রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৬০ শতাংশের বেশি রোগীর বয়স ৫০ ও তদুর্ধ্ব।

চিকিৎসকরা বলছেন, চিকিৎসাধীন রোগীর প্রায় শতভাগই মাস্ক পরায় চরম উদাসীন। মাস্ক পরার সঠিক নিয়মও তারা জানেন না। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও দিনের পর দিন থুতনির নিচেই পরেছেন।

এছাড়া ভর্তি রোগীদের মাঝে টিকা গ্রহীতার হার আড়াই শতাংশেরও কম। দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন রোগী পাওয়া গেছে মাত্র একজন। আর ৫ জন রোগী রয়েছেন যারা এক ডোজ করে টিকা নিয়েছেন। মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যার অনুপাতে টিকা গ্রহীতার এই হার ২.২৬ শতাংশ।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ২৬৫ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ১২-১৯ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হওয়া করোনা রোগীদের ওপর এ সমীক্ষা চালান চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক দল চিকিৎসক।

মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পালের তত্ত্বাবধানে এ সমীক্ষা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজীব বিশ্বাস। সমীক্ষা দলে ছিলেন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মির্জা নুরুল করিম, করোনা ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. সাবরিনা ইউসুফ ও মেডিসিন বিভাগের অনারারি মেডিকেল অফিসার ডা. সৌভিক পাল।

সমীক্ষা পরিচালনাকারী চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য ২৬৫ জন রোগীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এলাকা, নারী-পুরুষ, বয়স, আর্থিক অবস্থা, মাস্ক পরাসহ অন্যান্য তথ্য নেওয়া হয়েছে ১৭৪ জন রোগীর কাছ থেকে। সে হিসেবে টিকা সংক্রান্ত ছাড়া অন্যান্য তথ্য ১৭৪ জন রোগীর ওপর পরিচালিত সমীক্ষা থেকে পাওয়া।

সমীক্ষার উদ্দেশ্য : ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ায় সারা দেশের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। জুনের মাঝামাঝি থেকে চমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে রোগী বাড়তে শুরু করে। জুনের শেষ দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে করোনা ইউনিটে রেড জোনের আওতা বাড়াতে বাধ্য হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সংক্রমণকে কাছ থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যেই মূলত এই সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান সমীক্ষা পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া ডা. রাজীব বিশ্বাস।

এছাড়া সংক্রমণের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কিনা, তা খুঁজে বের করাও এই সমীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সমীক্ষা তত্ত্বাবধানে থাকা মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল।