ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজারে ৮ মৃত্যু, কান্নার মাতম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

0

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজারে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬জন রোহিঙ্গা শরণার্থী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা (১১টায়) এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আরো দুই জন আহত হয়। নিহতরা হলেন, নুর বাহার (৩০), শফিউল আলম (১২), দিল বাহার (২৪), আব্দুর রহমান(০৩), আয়েশা ছিদ্দিক (২)।

টেকনাফ ও মহেশখালী উপজেলায় পাহাড় ধসে  আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এই সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) এই ৮ জনের মৃত্যুর খবরে নিশ্চিত হয়েছে দৈনিক জয়বাংলা।

সরেজমিন পরিদর্শন ও সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী এই ঘটনায় বালুখালীস্থ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ১০ ও পালংখালীস্থ ক্যাম্প ১৮ তে শোকের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

১৬ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের)  অধিনায়ক এসপি মো. তারিকুল ইসলাম তারিক সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ক’দিন ধরে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ক্যাম্পগুলোতে ধসের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন।

 

ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। মো. তারিকুল ইসলাম তারিক জানান, ঘটনার বিষয়ে ক্যাম্প-১০ এর সিআইসিকে অবগত করা হয়েছে। পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পে জিডি করা হয়েছে। যার নং-৭৯৯।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামুদ্দৌজা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এতে অনেকেই আহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে ভূমি ধসের এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে বৃষ্টিতে খালে গোসল করতে নেমে পানিতে ভেসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ক্যাম্প গুলোতে পাহাড় ধসের মতো দূর্যোগ মোবাবেলায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তারপরও কিভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

অপরদিকে, পৃথক পাহাড় ধসে মহেশখালীতে মারা গেছে এক কিশোরী। পাহাড় ধসকালে ঘুমন্ত অবস্থায় এ কিশোরীর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) ভোররাতে ছোট মহেশখালী উত্তর সিপাহীর পাড়া এলাকায় ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরী মোরশেদা আক্তার (১৪) স্থানীয় আনছার হোসেনের মেয়ে।

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে  সহ বিভিন্ন এলাকায়  পাহাড় ধস হয়েছে

ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াদ বিন আলী তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে পাহাড় ধসে রকিম আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
তিনি মনিরঘোনা গ্রামের মৃত আলী আহমদের পুত্র। বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ পাহাড় ধসে তিনি আহত হন। উদ্ধার করে বালুখালি তুর্কি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী ও হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি আইসি এসআই মাহামুদুল হাসান মাহবুব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পাহাড় ধ্বস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ পারভেজ চৌধুরী।
তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

এইদিকে গত সোমবার বিকাল থেকে কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঁকখালী ও মাতামুহুরী এবং ঈদগাহ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন দুর্ভোগে পড়া লোকজন।

ভারী বর্ষণ ও পাহড়ী ঢল

কক্সবাজার সদর, ঈদগাও,
রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই পাঁচ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণের কারনে দেশব্যাপী লকডাউনের কারনে হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢলের বন্যায় মহা দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে টানা বর্ষণে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, পোকখালী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, ঈদগাঁও, ইসলাম, পেকুয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, উখিয়ার জালিয়াপাড়া, ইনানী, টেকনাফের সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব গ্রামে ঢুকছে জোয়ারের পানি।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট।

পোকখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ জানিয়েছেন, মধ্যম পোকখালী এলাকার নাছির মৌলভীর বাড়ী সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ২শ ফুটেরও অধিক অংশ ভেঙ্গে গিয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ইউনিয়নের পরিষদ সংলগ্ন প্রধান সড়কটিও ২/৩ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।
ইসলামাবাদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও কক্সবাজার সদর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান আজাদ জানান, বন্যায় ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঈদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, পরিষদ ভবনটি ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ১ নং ওয়ার্ডের প্রায় পরিবার ২/৩ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। চরম ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে ঈদগাঁও ইদগড় সড়কের কানিয়াছড়া পয়েন্ট। যেকোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঈদগাঁওর সাথে ইদগড়ের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।