করোনায় করুণ অবস্থা চট্টগ্রামে, হাসপাতালে বেডের জন্য হাহাকার

0

চট্টগ্রামজুড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে করোনা, রোগী নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছে স্বজনেরা। তবে, সেখানে খালি নেই কোনো সাধারণ ও আইসিইউ বেড। যার ফলে, হাসপাতাল বেড ঘিরে হাহাকার শুরু হয়েছে।

প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে একটু আশ্রয় পাচ্ছে না চট্টগ্রামের অসংখ্য রোগী।এই অবস্থায় করোনা চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর জন্য আকুতি জানিয়েছেন তারা।

সরকারি সহায়তায় ডাক্তার এবং নার্স পেলে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো অন্তত তিনশ’ বেডের করোনা হাসপাতাল চালু করতে পারবে বলে জানিয়েছে।

করোনা চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটি নিজেদের অন্তত এক লাখ বর্গফুটের ভবন হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যবহার করতে পারবে বলেও জানিয়েছে।

গত বুধবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের কারনে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে বাঁচাতে নিজের আইসিইউ বেড ছেড়ে দেন তিনি।

অনেকে বিষয়টিকে দেখছেন, করোনায় চট্টগ্রামের চিকিৎসাখাতের চরম অসহায় ও বর্থতার চিত্র হিসেবে।

এমনটা দেখা দিয়েছিল গত বছর, যখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের পরিচালক দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাইয়ের ভেন্টিলেটর খুলে লাগাতে হয়েছিল ছোট ভাইয়ের মুখে। ওই ঘটনায় তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে বড় ভাই মারা গিয়েছিলেন।

বর্তমান সময়ে শ্বাসকষ্টে ভোগা বহু রোগী আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছেনা। অনেকে আবার একটি সাধারণ বেডও পাচ্ছেনা, কোন বেড খালি না থাকায়।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ১৭৩ জন রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে। এর বাইরে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ৩৫ জন রোগীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫ জন ছিল মুমূর্ষু।

ওই পাঁচজন যখন তখন মারা যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছালেও সিটের অভাবে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ।

চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে তিনি জানিয়েছেন, সকাল থেকে একের পর এক রোগীকে ফেরত দিতে হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কোনো হাসপাতালে কোনো সিট খালি না থাকা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে সিট বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালেরই একই অবস্থা।

চমেক হাসপাতালে নির্ধারিত বেডের বহু বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুইটি বেডের মাঝখানে ফ্লোরেও রাখা হয়েছে রোগী।

মা ও শিশু হাসপাতালের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল, চট্টগ্রাম হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল কিংবা নতুন কোনো হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা হলে চট্টগ্রামের মানুষ বিদ্যমান হাহাকার কমবে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক  সূত্র।