পুরনো মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে তৈরি হয়েছে টোকিও অলিম্পিকের মেডেল

0

কোন কিছুই ফেলনা নয়, এবারের অলিম্পিকে এটি আরো পোক্তভাবে প্রমাণ হলো। রথ দেখা এবং কলা বেচার মতই এবার অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ অভিনব পন্থা বেছে নেয়।

পরিবেশ এবং খরচ বাঁচাতে টোকিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটি নিয়েছিল ভিন্ন পদক্ষেপ। ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করে তা দিয়ে বানানো হয়েছে প্রতিযোগীদের পদক।

‘টোকিও ২০২০ মেডেল প্রকল্প’ এর অধীনে ৩২ কেজি সোনা, ৩৫০০ কেজি রুপা এবং ২২০০ কেজি ব্রোঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে ৬২ লক্ষ পুরোনো মোবাইল ফোন থেকে।

২০২০ টোকিও অলিম্পিকের জন্য প্রায় ৫,০০০ স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জপদক উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত  ই-বর্জ্য সংগ্রহ করতে জাপানে দুই বছরের জাতীয় প্রচেষ্টা ছিল।

২০১৭ সালের প্রথম দিকেই ‘টোকিও ২০২০ মেডেল প্রকল্প’ চালু করা হয়। সেখানে দেশের জনগণের কাছে আবেদন করা হয়, তাঁদের ব্যবহৃত এবং পরে বাতিল হওয়া ছোট ছোট বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো অলিম্পিক উদ্যোক্তাদের দিয়ে দিতে। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ই-বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মূলত মোবাইল ফোনকেই বেছে নেওয়া হয় এই প্রকল্পের আওতায়। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের সাধারণ মানুষ বিপুল আগ্রহ নিয়ে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ১৬২১টি পৌরসভার মাধ্যমে এই ই-বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়। পৌরসভাগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে নগরবাসীর কাছ থেকে তা সংগ্রহ করে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ ডাস্টবিনও তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেও প্রচুর ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। একইসঙ্গে একটি বেসরকারি মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে এই কাজে নিযুক্ত করা হয়।

সব মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৯৮৫ টন ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন আউটলেটের মাধ্যমে ৬২ লক্ষ ১০ হাজার মোবাইল সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত ই-বর্জ্য থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ সংগ্রহ করা হয়।

এবারের অলিম্পিকের পদক ডিজাইন করেছেন জাপানি দিজাইনার জুনিচি কাওয়ানিশি। প্রতিটি স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদক ব্যাস ৮৫ মিলিমিটার এবং ব্যাপ্তি ৭.৭ মিলিমিটার থেকে ১২.১ মিলিমিটার পর্যন্ত।

খাঁটি রূপার উপর গোল-প্লেটের তৈরি প্রতিটি স্বর্ণ পদকের ওজন ৫৫৬ গ্রাম। যেখানে সোনার পরিমাণ মাত্র ৬ গ্রাম। এর বাজার মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হয় ৬৭ হাজার ৯১২ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ অলিম্পিকের স্বর্ণ পদকের মূল্য ছিল ৭০৮ ডলার। এর আগে রিও অলিম্পিকেও সোনার পরিমাণ ছিল ৬ গ্রামই। তবে পদকের মোট ওজন কিছুটা কম ছিল (৪৯৪ গ্রাম)।

তবে রৌপ্য পদকে পুরোটাই খাঁটি রুপা। যার ওজন ৫৫০ গ্রাম। বাজারমূল্য ৪৫০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় হয় ৩৮ হাজার ২০১। ব্রোঞ্জ পদকের ওজন প্রায় ৪৫০ গ্রাম। যা তৈরি হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ তামা ও ৫ শতাংশ দস্তা ও সামান্য পরিমাণ টিন দিয়ে। এর মূল্য ৫ ডলারের কাছাকাছি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৪ টাকা।

তাছাড়াও, পদকটিতে কেবল ধাতব পাত নয়, ফিতাও রয়েছে, যা ছাড়া এটি পরা যায় না। টোকিও ২০২০ পদকের ফিতাও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন যে ফিতাগুলি “রাসায়নিকভাবে পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল যা তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় কম কার্বন ডাইঅক্সাইড (C02) তৈরি করে।”