টিকটকে পরিচয়, এরপর ভারতে পাচার

0

প্রাণঘাতী করোনায় মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই সংকটপূর্ণ সময়ে  শিশু-কিশোর-রোহিঙ্গা পাচার করা হচ্ছে। পাচারকারীরা অর্থিকভাবে সংকটে থাকাদের চাকরির লোভ দেখিয়ে বিদেশ পাচার করছে। 

পাচারের ক্ষেত্রে ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

ভারত, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মানব পাচার চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই নারীদের বেশির ভাগকে জোর করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে রোহিঙ্গাদের পাচার থেমে নেই। এই তিন বছরে বাংলাদেশ থেকে সোয়া লাখ মানুষ পাচারের শিকার হয়েছে যার বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশের অন্তত ৩০টি জেলার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত আছে। ফলে এসব সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশু পাচারের নিয়মিত ঘটনা ঘটছে।

সাম্প্রতিক সময়ে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোরীদের ভারতে পাচারের ঘটনা উঠে এসেছে। নারী পাচারের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে গত মাসের শেষ দিকে ভারতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। এ ঘটনায় ভারতের পুলিশ ছয় জনকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে রয়েছেন ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রিফাদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয়।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব নারী পাচারে জড়িত দুটি চক্রের ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুধু এই দুই চক্র পাঁচ বছরে প্রায় ২ হাজার নারীকে ভারতে পাচার করেছে বলে পুলিশ ও র‌্যাব দাবি করেছে।

তবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয় তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করেছে, বছরে এই সংখ্যা ৫০ হাজার। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সংখ্যার সত্যতা নিয়ে কখনো কিছু বলা হয়নি।