পথে পথে ১০ চেকপোস্ট: তাও টপকে ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

0

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের শত শত রোহিঙ্গা, ক্যাম্প ছেড়ে কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।

গত (৩ আগস্ট) মঙ্গলবার রোহিঙ্গা শিবির থেকে কৌশলে বের হয়ে পালানোর সময় ৫০ কিলোমিটার দূরে রামু উপজেলার রশিদনগর  হতে ৩৩ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গাদের আটক করে।

লকডাউনের কারণে গাড়ি পরিবর্তন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সময় সড়কে স্থাপিত চেক পোস্টে আটক হয় তারা।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানান, আটককৃত রোহিঙ্গাদের ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় ৩৩ জনকে মোট ১৪৪১৫ টাকা জরিমানা ও ১৮টি মোবাইল জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন জানান, ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের ১মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ড দেওয়া হয়।

  সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) উখিয়া শাখার সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিকদার জয় বাংলাকে জানান, কাটা তারের  বেড়া ও ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  অন্তত ১০ টি চেক পোস্ট ফাঁকি দিয়ে কিভাবে রোহিঙ্গারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, এটি নাগরিক সমাজের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। নানা অপরাধ সহ  মাদক পাচারে জড়িত রোহিঙ্গারা। স্হানীয়দের শ্রম বাজারটি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষযে আরো কঠোর নজরদারি করার জন্য  আহ্বান সুশীল সমাজের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুতুপালং সহ ২০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা কাজের সন্ধানে  বের হচ্ছে। আবার অনেক রোহিঙ্গা  ঢাকা-চট্টগ্রাম- রাজশাহী সহ বিভিন্ন শহরে বসবাস করার জন্য পালিযে যাচ্ছে।

বিকাল সাড়ে ৫টায় আটক কৃত রোহিঙ্গাদেরকে রামু উপজেলা গেইট হতে পিকআপযোগে উখিয়ার তাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিযেছেন রামু থানার অফিসার ইনচার্জ।

একইভাবে গত ৭ জুলাই পালিয়ে  যাওয়ার সময় রামুতে ৫ রোহিঙ্গাকে ১মাসের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে, রামু থানা পুলিশসহ হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদেরকে  আটক করে।

সাজাপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা আসামীরা হলো যথাক্রমে- আব্দুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (২০), আহাম্মদ হোছন এর ছেলে মোহাম্মদ জোবাইর(২০), সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আয়াছ(১৯), মোঃ সালাম মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৯), মোহাম্মদ আমিন এর ছেলে নুর হাফেজ (১৯), এরা সবাই  উখিয়া জামতলী, ক্যাম্প-১৫ এর বাসিন্দা।