শেষ টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয়, সাকিবের বিশ্ব রেকর্ডের দিনে ৪-১ সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

ক্রিয়া প্রতিবেদন

0

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ এ সিরিজ জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক অনন্য রেকর্ড করল বাংলাদেশ, যা ইতিপূর্বে কখনো ঘটেনি।

বাংলাদেশের দেওয়া ১২৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন স্কোর।

৪ উইকেট শিকারের মাধ্যমে বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের মাইক ফলক অর্জন করলো সাকিব আল হাসান।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সৌম্যের পরিবর্তে নাঈম শেখের সাথে মাহেদি হাসানের শুরুটা হয় বেশ উজ্জল। অ্যাস্টন টার্নারের করা প্রথম ওভারে মেহেদির এক বাউন্ডারিসহ আসে ৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে অ্যা্টন আগারকে ছক্কা মেরে শুরু করেন নাঈম। তৃতীয় ওভারে এসে অ্যাডাম জাম্পাও জোড়া বাউন্ডারি হজম করেন। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে অদ্ভুতভাবে ৪২ রানের এই জুটির অবসান হয়। টার্নারের করা ওই ১২ বলে ২ চারে ১৩ রান করা মেহেদি হাসানের তার হাত থেকে ব্যাটের গ্রিপ ছুটে যায় এবং ক্যাচ ওঠে। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করেন অ্যাস্টন আগার। মাটিতে ছিটকে যাওয়া ব্যাটের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন মেহেদি। তারপর মাঠ ছাড়েন।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয়,

তারপর নাঈমের সঙ্গী হন সাকিব আল হাসান। নবম ওভারের প্রথম বলে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান সাকিব। আসে ১ রান। পরের বলেই ক্রিশ্চিয়াকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে অ্যাস্টন আগারের তালুবন্দি হন নাঈম (২৩)। উইকেটে আসেন সৌম্য সরকার। পাঁচ বল খেলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি রানের দেখা পান। তবে সাকিব (২০ বলে ১১) আজ ব্যাট হাতে ব্যর্থ। অ্যাডাম জাম্পার করা ১০ম ওভারের শেষ বলে তিনি এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম এলবিডাব্লিউ হলেন সাকিব। সৌম্যর সঙ্গী হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। জাম্পাকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু না, ১৪ বলে ১ ছক্কায় ১৯ রানে আগার তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন।

১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে  সৌম্যর বিদায়ে দলীয় ৯৬ রানে টাইগারদের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়। টানা চার ম্যাচ বাজে খেলে একাদশে জায়গা হারিয়েছেন সৌম্য। আজ তার জায়গা হয়েছে চার নম্বর পজিশনে। শুরুতে যথারীতি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভূগছিলেন। এরপর একটি ছক্কা ও একটি চারে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দেন। সেই ভিন্ন কিছু আর হলো না। ১৭ বলে ১৬ রান করে ক্রিশ্চিয়ানের বলে লফটেড ড্রাইভ করতে গিয়ে টার্নারের তালুবন্দি হন। চলতি সিরিজে এটাই তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ১৭তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পা দিয়েছেন মাত্র ১ রান।

১৩ বলে ৮ করা নুরুল হাসান সোহানও আজ ধুঁকছিলেন। এলিসের করা ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলটি তার ব্যাট ছুঁয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগে। উইকেটে আসেন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক। প্রথম ৬ বল খেলে তিনি কোনো রান নিতে পারেননি। নিজের খেলা ৭ম বলে একটা বাউন্ডারি মারেন। ১০ বলে ১০ রান করা আফিফ শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আউট হলে উইকেটে আসেন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া সাইফউদ্দিন। রান-আউট হয়ে ফিরেন ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১২২ রান।

টাইগারদের দেয়া ১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাজে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। নাসুমের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই উইকেট হারান ড্যান ক্রিস্টিয়ান। ফেরার আগে ৩ বলে ৩ রান করেন এই অজি ওপেনার। এরপর মিচেল মার্শকেও ফেরান নাসুম। ৩য় ওভারের পঞ্চম বলে মার্শকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই টাইগার স্পিনার। ফেরার আগে ৯ বলে ৪ রান করেন মার্শ।

নাসুম আহমেদ, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের আঘাত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভার ৪ বলে ৬২ রানে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ১২২/৮ উইকেটে (২০ ওভার)

রানঃ নাঈম ২৩, মাহেদী ১৩, সৌম্য ১৬, মাহমুদুল্লাহ ১৯

উইকেটঃ ক্রিসিয়ান ২, এলিস ২

 

অস্ট্রেলিয়াঃ ৬২/১০ উইকেট (১৩.৪ ওভার)

রানঃ ম্যাটিও ওয়েড ২২, বেন মেকডার্মড ১৭

উইকেটঃ সাকিব ৪, সাইফউদ্দিন ৩, নাসুম ২, মাহমুদুল্লাহ ১

সাকিব অল হাসান (প্লেয়ার অফ দা ম্যাচ এবং প্লেয়ার অফ দা সিরিজ)