আফগানিস্তান যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে বাংলাদেশে পড়ছে

0

অবশেষে আফগানিস্তানে ২০ বছরের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর উপস্থিতির পরিসমাপ্তি ঘটলো।
আফগানিস্তান যুদ্ধের সমাপ্তি, নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে তালেবান।

রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ জায়গা তালেবানের দখলে আসার খবরে বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, তালেবান যোদ্ধারা যদি পুরো আফগানিস্তান দখল করে নতুন করে সরকার গঠন করে, তবে তাদের সাফল্যে দেশীয় জঙ্গিরাও উজ্জীবিত হতে পারে।

আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে কয়েকদল যুবক সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে যোগ দিতে আফগানিস্তানে গিয়েছিল৷ চার দশক পর আরো কিছু তরুণ এমন পথে হাঁটার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হঠাৎ করে উগ্রবাদী তৎপরতা বেড়ে গেছে।

গত ১০ মে চার তরুণকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট৷ তাদের মধ্যে  একজন একটি বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের, দুইজন দুইটি ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ও অন্যজন একটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী৷ সবার বয়স ২০ থেকে ২৯ বছর৷

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে গ্রেফতারের পর জানা যায় তারা আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন৷ তাদের কাছ থেকে পুলিশ তাদের দুই সঙ্গীর আফগানিস্তানে পৌঁছানোর খবর জানতে পেরেছে৷

জানতে চাইলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান আসাদুজ্জামান  বলেন, দেশে যে তালেবান অনুসারী নেই, এটা বলা যাবে না। তালেবানের ক্ষমতা দখলে তারা যে উজ্জীবিত হবে, এটাও ঠিক। কিন্তু তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। পুরো পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা সাইবার নজরদারি বাড়িয়েছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, তালেবানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জঙ্গিরা দেশের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। তালেবানের যত বেশি উত্থান হবে, বাংলাদেশকে তত বেশি সতর্ক হতে হবে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগে আফগানফেরত অনেকে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করেছে। আবার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ গিয়েছেও।’

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, আনসার আল ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাঁদের সদস্যদের আফগানিস্তান যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করছে। নিষিদ্ধ এক সংগঠনের অন্তত ১০ জন জঙ্গি ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে গিয়েছে। এর মধ্যে আরও কয়েকজন আফগানিস্তানে যাওয়া পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে গেছে। যাওয়ার প্রস্তুতির সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ছবি- তালেবান সশস্ত্র বাহিনী 

 

১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানের তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারকে রক্ষা করতে সোভিয়েত সেনাবাহিনী সে দেশে অভিযান শুরু করে। মস্কো তখন বলেছিল সোভিয়েত সৈন্যরা ছয় মাস থাকবে। কিন্তু লড়াই এত তীব্র হয় যে সোভিয়েত সৈন্যদের ১০ বছর কাটাতে হয়। ঠিক সেই সময়ে মুসলিম দেশগুলো থেকে হাজার হাজার যুবক আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়। সে সময় সাড়ে তিন হাজারের মতো বাংলাদেশি সেই যুদ্ধে অংশ নেয়, যাদের ৩০ জনের মতো নিহত হয়। সেই যুদ্ধের ভেতর দিয়ে জন্ম হয় আজকের তালেবান এবং আল-কায়েদার মতো জিহাদি গ্রুপ।

সেই যুদ্ধে যোগ দেওয়া বাংলাদেশিদের অনেকেই ফিরে ১৯৯২ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি (হুজি) আত্মপ্রকাশ করে। তারা আফগানিস্তানে গেরিলা যুদ্ধ ও ভারী অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। বোমা হামলাসহ উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৫ সালের অক্টোবর। হুজি নিষিদ্ধ করার পর তাদের ভাবাদর্শে তৎপরতা শুরু করে আনসার আল ইসলামসহ আরও কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন, যা এখনো অব্যাহত আছে।

সূত্র- আজকের পত্রিকা