ওসি প্রদীপের নির্দেশে লিয়াকতের গুলিতে খুন হন সিনহা

অনলাইন ডেস্ক

0

টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান খুন হন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত হত্যা মামলাটির বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালতে তিনি হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে অভিযুক্ত ১৫ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া।২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি মোজাফফর আহমদ, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন আহমদ বাদী শারমিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। মঙ্গলবারও বাদীকে জেরা করা হবে বলে আসামি পক্ষের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন।

বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ মামলার ১৫ জন আসামি। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আদালতের সমন পেয়ে বাদী শারমিন, নিহত সিনহার সঙ্গী শাহেদুল ইসলাম সিপাতসহ পাঁচ সাক্ষী সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সোমবার সকালে আদালতে হাজির হন। তবে এ দিন শুধু শারমিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের শারমিন বলেন, ‘আমি আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি, চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত ১৫ আসামির যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।

 

আদালত সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলে সাক্ষ্য গ্রহণ। মধ্যখানে এক ঘণ্টা বিরতির পর বেলা সাড়ে তিনটায় আবার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি ঘোষণা হয়। এ সময় ১২ আসামির পক্ষের নিযুক্ত ৯ জন আইনজীবী মামলার বাদীকে ঘটনার নানা ইস্যুতে জেরা করেন। সময়ের অভাবে মামলার অপর তিন আসামি ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এএসআই লিটন মিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা মামলার বাদীকে জেরা করতে পারেননি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর দাবি করেন, মামলার স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে আসামি পক্ষ। তিনি বলেন, আসামি পক্ষ ১১টি দরখাস্ত দিয়েছে। সবগুলোর সারবস্তু হলো মূল আসামির মামলা স্থগিত করা। মামলার এক নম্বর সাক্ষী বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। জেরা চলছে।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে সব আসামি আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মঙ্গল ও বুধবারও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল গত ২৭ জুন মামলার চার্জ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ মামলায় ৮৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। পরে তার বোন শারমিন বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাবকে। চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ডিসেম্বরে অভিযোগপত্র দাখিল করেন র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। এতে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।