ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা ডুবে ২০ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেছে।  এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুর রহমান ২০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মরদেহের মধ্যে ১০ জন নারী ও সাতজন শিশুকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নৌ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর নৌকার ঘাট থেকে যাত্রীবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা করে। তিতাস নদের বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লইছকা বিলে বালুবাহী একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সে সময় যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাটির পেছনে আরেকটি বালুবাহী ট্রলার ছিল। এটিও যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী নৌকাটি উল্টে ডুবে যায়। নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

আহত যাত্রীরা জানান, প্রথমে ধাক্কা দেওয়া ট্রলারটি দ্রুত পালিয়ে যায়। রাত পৌনে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন দুটি শিশু, একজন তরুণ, আটজন নারীসহ ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেন। পরে সদর থানার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এখন পর্যন্ত যাঁদের পরিচয় জানা গেছে তাঁরা হলেন বিজয়নগর উপজেলার আজমপুরের শিলবাড়ির পরিমল বিশ্বাসের স্ত্রী অঞ্জনা বিশ্বাস, জজ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম ও চম্পকনগরের মিনারা বেগম।