কক্সবাজারের বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণে সংসদীয় কমিটির আপত্তি

0

কক্সবাজারে বন বিভাগের ৭০০ একর বনভূমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।  ওই বনভূমিতে যেন প্রকল্পটি গ্রহণ না করা হয় কমিটি সেই ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির  বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

রক্ষিত বনভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার ৭০০ একর রক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা গত জুনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বন্দোবস্ত দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবি ওঠে। আজ রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন ও মো. শাহীন চাকলাদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি। তাই আমরা ওই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমতি দিতে না করেছি। পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার চলছে। সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা যদি বনবিভাগের জমি নিয়ে নেয়, এটা তো সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় প্রকল্পটি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এটা আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি সংবিধান পরিপন্থী। প্রকল্পটা অন্য জায়গায় হোক।

 

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এই জায়গা ১৯৩৫ সালে রক্ষিত বনভূমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়, ১৯৮০ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান এবং ১৯৯৯ সালে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা) ঘোষণা করা হয়। এখানে কোনো স্থাপনা না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এসব কারণে এখানে প্রশিক্ষণ একাডেমি করার সুযোগ নেই বলে মনে করে সংসদীয় কমিটি।