উখিয়ায় যানজট নিরসনে নেওয়া হয়েছে যে তিনটি সিদ্ধান্ত

0

বর্তমানে “যানজট” কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অন্যতম একটি সমস্যায় পরিনত হয়েছে। বর্ধিত আকারে রাস্তা নির্মাণ করার পরেও বিশেষ করে কুতুপালং বাজার সহ অন্যান্য বাজার গুলোতে যেন যানজট কমছেই না। যার অন্যতম কারণগুলো হলো, রাস্তার উপরে বাজার, যত্ততত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো, সিএনজি এবং টমটম গুলো রাস্তার দুই পাশ ধকল করে নেওয়া। যার ফলে ভোগান্তিতে দিন পার করছে স্থানীয় ও এনজিও কর্মকর্তারা।

অবশেষে, যানজটের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ দূর করতে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সে লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “সড়ক, মহাসড়ক ও বিভিন্ন স্টেশনে সৃষ্ট যানজট নিরসনকল্পে করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ। প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মত বিনিময় সভায় ছিলো সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে করণীয় নিয়ে মুক্ত আলোচনা।

আলোচনার প্রেক্ষিতে নেওয়া তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সমাপনী বক্তব্যে তুলে ধরেন সভার সভাপতি উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো, নির্ধারিত সময় রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা ব্যতিত অন্য সময়কালে সড়ক সংলগ্ন উপজেলার ছয়টি বাজারে বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহে ব্যবহৃত পরিবহন গুলো কোন প্রকারের মালামাল উঠানো বা নামাতে পারবেনা। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে বলা হয়, আগামী রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে সড়কের উপর স্থাপিত সবধরনের স্থায়ী-অস্থায়ী কিংবা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো সরাতে হবে। সড়কে পরিবহন পার্কিং নিয়ে দেওয়া হয় সর্বশেষ সিদ্ধান্ত। যেটি অনুযায়ী, মুল সড়কের অদূরে ছোট পরিসরের যানবাহনগুলো বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম আলাদা ভাবে একক লাইন করে এক সারিতে দাঁড়াতে পারবে এবং দ্বৈত লাইন করা যাবেনা।

এছাড়াও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনভাবেই সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয় এ সিদ্ধান্তে। পাশাপাশি আরোপিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে উখিয়ার ইউএনও বলেন, ” সিদ্ধান্ত গুলো কার্যকর করতে সভায় জনপ্রতিনিধি-ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, বাজারের ইজারাদার, পরিবহন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সহ সংশ্লিষ্টদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো সহ জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” কেউ যদি গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অমান্য করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা।

সভায়, উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জুর মোরশেদ, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক বৃন্দ, বাজার সমূহের ইজারাদার, পরিবহন শ্রমিক-মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।