ঝিলংজা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে টিপু সুলতাল এগিয়ে,বিজয় সু নিশ্চত

0

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনিত নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী টিপু সুলতানের নির্বাচনী শেষ জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত সভা চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাহেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন হেলাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সরওয়ার আলম চৌধুরী।

জনসভায় টিপু সুলতান বলেন, গত ২০১১ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটে আমি পরাজিত হয়েছিলাম। তারপরও ঝিলংজাবাসীকে ছেড়ে যায়নি। চেয়ারম্যান না হয়েও তাদের সুখে-দুঃখে ও বিপদেআপদে পাশে থেকে সেবা দিয়েছি।

পরে ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমাকে আপনারা বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এরপর থেকে ঝিলংজা ইউনিয়নে পঞ্চাশ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, তা গত ৫ বছরে হয়েছে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৮০ শতাংশ উন্নয়ন করেছি। করোনার কারণে ২০ শতাংশ কাজ বাকী রয়েছে। এখনো কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিচঢালা রাস্তা, আর সিসি ঢাইলাই রাস্ত, বহু মসজিদ-মাদ্রাসার, স্কুল ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান সংস্কার ও উন্নত করেছি।

তিনি বলেন,গত ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কারো একটি টাকা ক্ষতি করিনি। সব সময় আল্লাহকে ভয় করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছি। বউ-বাচ্চা বাসায় রেখে বহু সময় পরিষদে রাত কাটিয়ে মানুষের সেবা দিয়েছি। নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সব মানুষকে নিজের মনে করে দায়িত্ব পালন করেছি। কাউকে পর ভাবিনি। কোন মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করিনি। তবুও মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ছোটখাটো ভুলত্রুটি যদি হয়ে থাকে আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদের ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার আমার আছে। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনের নৌকা প্রতীকে আমাকে ভোট দিয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার সুযোগ দিন।

তিনি আরোও বলেন, আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন ঝিলংজাবাসীর জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আগামীদিনে কেমন হবে ঝিলংজা সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনসাধারণকে। সর্বস্তরের মানুষ নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। স্থানীয় স্বার্থে নৌকার পক্ষে জোয়ার উঠেছে। আমি অনুরোধ করবো সকলে ভোটকেন্দ্রে যান, ভোটদিন, জনরায় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা ও প্রার্থীর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মনির আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সদর উপজেলা ভা্ইস চেয়ারম্যান হামিদা তাহের, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা নজিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহামুদুল করিম মাদু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান এবং ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী ভুট্টো।

জনসভায় বিভিন্ন বক্তারা বলেছেন, ঝিলংজার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে নৌকার প্রার্থী টিপু সুলতানের পরিবারটি জড়িয়ে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জেনেশুনে সবকিছু দেখে নৌকার টিকেট দিয়েছেন। অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র টিপু সুলতান যদি চেয়ারম্যানের দায়ীত্ব পালনকালে কোন ভুল বা অন্যায় করতো তার জন্য ভোট চাইতে আসতাম না। তিনি ইতিমধ্যে ঝিলংজার জনসাধারণকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে ও গরীব কৃষকদের তাদের ক্ষেতের ফসলি ফলন বাঁচাতে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের বরাদ্দ এনে কাজ শেষ করেছেন। টিপু যদি পুরনায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, ঝিলংজার আপমর জনসাধারণ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে আলোর মুখ দেখতে পারবেন। নয়টি ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ চিত্র পাল্টে যাবে। তার নিষ্টা, সততা, কর্মদক্ষতা যাচাই করে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সঠিক কাজে সাহসী ভুমিকার জন্য ঝিলংজার ভোটারগন তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

বক্তব্যে টিপু সুলতানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে কোন ষড়যন্ত্র কিংবা ক্যু করার চেষ্টা করলে জনগণই রুখে দাড়াবে। তিনি সর্বাবস্তায় নৌকার সমর্থকদেরকে শান্তি সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানান। ষড়যন্ত্রকারীরা নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে এবং ভোটেরদিন চেষ্টা করবে, তাই এসব সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আশাপ্রকাশ করেন এ পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখছে। ফলালফল ঘোষণা পর্যন্ত সেই পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি আহবান জানান।

সভায় স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। সভা শেষে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন, নেতাকর্মীদের পরিশ্রম কবুল ও ১১ নভেম্বর নৌকা প্রতিকের সফলতা কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ড. নুরুল আবছার।