প্রফেসর আরিফ এলাহী, একজন সৎ মানুষের পথচলা

0

পুরো নাম হোসাইন আহমেদ আরিফ এলাহী। শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ প্রফেসর হয়েছেন বেশ আগেই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বেশকিছু জেলায় ইংরেজি বিষয়ে সুনামের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করিয়ে এসেছেন দীর্ঘদিন ধরেই সেই সূত্রে সারা দেশজুড়ে রয়েছে জনাব এলাহীর অগনিত ছাত্র-ছাত্রী। সুশিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের আরিফ এলাহী আজীবন শিখিয়েছেন ম্যানার্স। লেখা পড়া করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্নাস ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর ফুলব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন ইএলটি ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের ” হনর্বি স্কুল অব ইংল্যান্ড থেকে “শিক্ষা ব্যবস্থাপনা” নিয়ে পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ভারত থেকে অর্জন করেন TESOL -এর মত বিরল উচ্চতর ডিগ্রি। মেধাবী এই শিক্ষক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। জনাব আরিফ এলাহী চাইলে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত বিশ্বে অত্যন্ত আরাম আয়াশে জীবন কাটাতে পারতেন কিন্তু শিক্ষকতা পেশাকে তিনি মনে প্রাণে লালন করতেন বলেই সুদূর আমেরিকা এবং লন্ডনে একজন উচ্চ ডিগ্রিধারী অভিবাসী হওয়ার সুযোগ পেয়েও তা গ্রহন করেননি। এটি নিঃসন্দেহে দেশের এবং পেশার প্রতি জনাব এলাহীর অশেষ মমত্ববোধ। প্রকৃতপক্ষে জনাব আরিফ এলাহি ১৯৯৩ সালে ১৪’ শ তম বিসিএস-এর মাধ্যমে কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের পর, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজসহ আরো বিভিন্ন জেলায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষকতা করে এসেছেন । পরবর্তিতে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতেও কঠোর শৃঙ্খলার সাথে চাকুরী করেছেন। ২০১৬ সালে প্রফেসর পদে পদোন্নতির পর তিনি কক্সবাজার সরকারী কলেজে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন এমতাবস্থায়
তিনি ২০২১ সালে ডাক পান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে যোগ দেয়ার জন্য। চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, রাঙ্গামাটি, খাঘড়াছড়ি, বান্দারবানের মত বিশাল এলাকা। একজন শিক্ষক হিসেবে দেশের অসংখ্য শিক্ষকের কল্যাণ করার ব্রত নিয়ে ২০২১ সালের ৭ মার্চ জনাব এলাহী চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে যোগদান করেন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর মেধাবী ও সৃজনশীল নেতৃত্বগুণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় সকল শিক্ষকের মন জয় করে নিয়েছেন। সকাল থেকে রাত অবধি কোনো ক্লান্তি ছাড়াই একটানা শিক্ষকদের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, বান্দারবান ইত্যাদি জায়গা থেকে এক ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষক আসেন জনাব এলাহীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিক্ষা অফিসে। তিনি শিক্ষকদের তাঁর সামনে বসিয়ে তাদের কাজগুলো পরম মমতা দিয়ে করে দেন আর যে সমস্ত শিক্ষকের ফাইলে ভুল রয়েছে কিংবা কাগজপত্র অষ্পষ্ট রয়েছে তাদেরকে বিনয়ের সহিত বলে দেন যে, আপনারা আবার ঠিক করে ফাইল পাঠান। এবং পরবর্তিতে শিক্ষকরা ফাইল পাঠালে তিনি ফাইলগুলোর কাজ করে দেন। একজন পরিচালক হয়েও জনাব এলাহী কোনো এপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই যখন তখন শিক্ষকদের রুমে প্রবেশ করতে দেন যাথারীতি যতদূর সম্ভব আপ্যায়ন করান এবং সময় দেন। এই পর্যন্ত কোনো শিক্ষকই জনাব এলাহীর রুম থেকে আপ্যায়ন ছাড়া ফিরে গেছে এমন নজির নেই। একজন আপাদমস্তক ভালো মানুষ জনাব এলাহী শিক্ষকদের কথা শোনেন ঘন্টার পর ঘন্টা এবং সমস্যা হলে তার সমাধানও দেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে। শিক্ষকদের অভিভাবক হিসেবে ইতিমধ্যে জনাব আরিফ এলাহী বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে প্রখর বুদ্ধি, মেধা আর সৃজনশীল উদ্ভাবনী শক্তির কারণে খুব কম সময়ে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিক্ষকদের মন জয় করে নিয়েছেন। কর্মবীর জনাব আরিফ এলাহী বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো মানুষের পাশাপাশি তিনি একজন কবি, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদক। জনাব আরিফ এলাহী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে The Daily Sun পত্রিকায় নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন। তাছাড়া জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত বাংলাদেশের বিখ্যাত কবিদের কবিতা অনুবাদ করেছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে। ইংরেজি ভাষায় বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জনের কারণে এ পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিবেদিত দেশের বরেণ্য কবি শামসুুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মহাদেব শাহা, নির্মলেন্দু গুণ, আসাদ চৌধুরী, হাবিবুল্লাহ সিরাজীসহ আরো বেশকিছু কবির কবিতা ইংরেজি অনুবাদ করেছেন এবং এসমস্ত অনুবাদ কবিতা দেশের বিভিন্ন ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে। এই নির্হংকারী মানুষটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হওয়ার পর শিক্ষক সমাজে শিক্ষা অফিস সম্পর্কে ধারনাই পাল্টে গেছে এটি তিনি করতে পেরেছেন নিজের শতভাগ সততার কারণে। অনেকটা নিভৃত্যচারী এবং প্রচার বিমুখ এই মানুষটি মানুষের কল্যাণ করে যেতে চান সারাজীবন তার প্রতিদানে চান মানুষের দোয়া এবং অনিঃশেষ ভালোবাসা ।
লেখক-

রতন কুমার তুরী

কলেজ শিক্ষক,প্রাবন্ধিক।