সরকারী চাকুরির মৌখিক পরিক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণের কৌশল

0

একটি ভাইবার পূর্বে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য বেসিক কিছু বিষয় আছে যেগুলোর উপর নজর দেয়া আবশ্যক। আপনি যে কোন প্রতিষ্ঠানেই ভাইবা দিতে যান না কেন টেকনিক্যাল পার্টের পাশাপাশি নিন্মোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রায়ই প্রশ্ন করে থাকে। তাই ভাইবার আগে থেকেই বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রস্তুতি গ্রহন করলে ভাইবা বোর্ডে অন্যদের থেকে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকবেন।

ক) প্রথমেই ভাইবার জন্য নিজেকে মানুষিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। ভাইবায় ঢুকার আগে পর্যন্ত এবং ভাইবার সময় ফুরফুরে মেজাজে থাকবেন। ভাইবার আগের রাতে অবশ্যই পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। আপনার রিটেন পরিক্ষা যেমনই হোক না কেন বা আপনার ভাইবা প্রস্তুতি পূর্বে থেকে যেমনই হোক না কেন ভাইবা বোর্ডে অন্যদের থেকে সেরা পারফর্ম করতে পারলে আপনি নিশ্চিতভাবে একটু হলেও এগিয়ে থাকবেন। ভাইবার আগে নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস অর্জন করাটা খুবই জরুরী। এজন্য নিজেকে কখনোই অন্যদের থেকে দূর্বল মনে করবেন না, সবসময় মনে করবেন আপনি সব পারেন & যেখান থেকেই প্রশ্ন করুক না কেন আপনি স্মার্টলি উত্তর করতে পারবেন। দেখবেন এই আত্মবিশ্বাসের কারনেই আপনি ভাইবায় এগিয়ে থাকবেন।

খ) ভাইবার ড্রেসকোট নিয়ে মোটামুটি সবারই ধারনা আছে। ভাইবার জন্য উত্তম ড্রেসকোট হল এক কালারের সাদা শার্ট, কালো ফরমাল প্যান্ট, কালো স্যু & কালো বেল্ড। তবে এই ড্রেসগুলো না পড়লে যে আপনার ভাইবা নিবে না বা মার্ক কম দিবে বিষয়টা এমন না। এই ড্রেসগুলো পড়লে আপনাকে সুদর্শন লাগবে & আপনার কনফিডেন্ট বাড়বে। তবে উপর্যুক্ত পোশাকগুলো যদি না থাকে তাহলে অন্তত কালো ফরমাল প্যান্ট যেন থাকেই সাথে হালকা চেক/স্টেপ শার্ট হলেও সমস্যা নাই। অর্থাৎ আপনাকে যেন এমন দেখায় যাতে আপনাকে কোনভাবেই জোকারের মত না লাগে। আমি নিজেও সাদা শার্ট পরে কখনো ভাইবা দেই নাই। তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোন কারন নাই। ভাইবার জন্য ডাক পরার পর দরজা খুলে প্রথমে সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবেন, স্যারেরা ব্যস্ত থাকায় অনুমতি না দিলে বা শুনতে না পেলে পূনরায় সালাম দিয়ে অনুমতি চাইবেন। অনুমতি দিলে তারপর প্রবেশ করবেন & বসার অনুমতি দিলে আস্তে করে বসবেন এবং বসার পর ধন্যবাদ দিবেন। মনে রাখবেন কোন অবস্থাতেই আপনাকে যেন তারাহুরো বা বিরক্তিকর না দেখায়।

গ) ভাইবার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার কাগজপত্র ঠিক আছে কি না। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের চাহিদার সাথে আপনার সব সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র ঠিকঠাক করা। এজন্য প্রথমেই জেনে নিবেন প্রতিষ্ঠানটি কি কি কাগজপত্র চেয়েছে। সেই কাগজপত্রগুলো যথাযথভাবে সংগ্রহ করে অবশ্যই ২ সেট ফটোকপি সত্যায়িত করে নিবেন। ২ সেট করার কারন হল ১ সেট ব্যাকাপ হিসাবে রাখা। সত্যায়িত করার জন্য সাথে মূল কাগজগুলো নিয়ে যাবেন। আর ভাইবা বোর্ডে মূল কাগজপত্র তো লাগবেই। তাহলে মোট কথা হল ভাইবার আগের দিনেই আপনি মূল কাগজপত্র & ২ সেট সত্যায়িত ফটোকপি রেডি করে ভাইবা বোর্ডে নিয়ে যাবেন। ফটোকপিগুলো আগেই জমা নিবে & মূল কপিগুলো ভাইবা বোর্ডে দেখাতে হবে। (অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই মূল কপি চেক করে নেয়)
আপনার মূল কাগজপত্রগুলো অবশ্যই ক্রম অনুসারে সাজিয়ে (ডিপ্লোমা, এসএসসি, ট্রেইনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদপত্র, অন্যান্য যদি চায়) একটি জেমস ক্লিপ দ্বারা আটকিয়ে ভাইবা বোর্ডে নিয়ে যাবেন এবং কাগজ চাইলে তারপর তাদের হাতে দিবেন। যদি ফাইলে করে কাগজপত্র নিয়ে যান তাহলে অবশ্যই ফাইল থেকে কাগজগুলো বের করে তারপর তাদের হাতে দিবেন।
আর যারা বিভিন্ন সরকারী/আধাসরকারী/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং আবেদনের সময় উল্লেখ করেছেন তাদের অবশ্যই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিতে হবে। আর যারা আবেদনে উল্লেখ করেন নাই তাদের দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে ভাইবায় চাকরির কথা বললে এনওসি চাইতে পারে।
আর যারা প্রাইভেট চাকরি করেন বা বেকার তাদের কোন এনওসি লাগবে না। যদি ভুলে অটোনোমাসে টিক দিয়েও থাকেন তাহলে ভাইবার আগেই এইচআরএমকে জানাবেন যে ঐটা ভুলে দেয়া হয়েছে।

ঘ) সবসময় ভাইবা বোর্ডের মেম্বারদের চোখে চোখ রেখে হাসিখুশিভাবে উত্তর দিবেন। যখন যেই স্যার প্রশ্ন করবে তখন সেই স্যারের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিবেন। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে ভুল উত্তর বা আন্দাজে উত্তর না দিয়ে স্মার্টলি সরি বলে দিবেন। আপনি বলতে পারেন “সরি স্যার এই উত্তরটি আমার জানা নাই” অথবা ” সরি স্যার এই মূহুর্তে মনে পরছে না”। এতে ভাইবা বোর্ড আপনার উপর একটা পজেটিভ ধারনা পাবে & আপনাকে কনফিডেন্ট মনে করবে।
ভাইবা বোর্ডে অনেক সময় আপনার টেম্পার যাচাই এর জন্য উল্টাপাল্টা প্রশ্ন ও কথাবার্তাও বলতে পারে সেগুলো নিয়ে কখনোই তর্ক করতে যাবেন না।

***এইবার আসি টেকনিক্যাল পার্টের বাইরের পড়াশুনা সংক্রান্ত কিছু কমন প্রস্তুতি যা সব ভাইবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঃ

ক) ভাইবা বোর্ডে সবচেয়ে কমন প্রশ্ন “নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন বা Introduce Yourself”। এজন্য নিজের সম্পর্কে কিছু কথা বাংলা ও ইংরেজীতে নোট করে নিবেন এবং নিয়মিত প্রাক্টিস করবেন। ভাইবা বোর্ডে বাংলাতে প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দিবেন & ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজীতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করলে ভুলেও ইংলিশে উত্তর দিতে যাবেন না, নাহলে পরবর্তীতে বিপদে পরবেন। নিজের সম্পর্কে সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক ভিডিও ইউটিউবে আছে সেখান থেকে দেখে নিজের মত করে সাজিয়ে নিবেন। ভাইবা বোর্ডে এমনভাবে উপস্থাপন করবেন যে কোন ভাবেই বুঝা না যায় আপনি এটি পূর্বেই মুখস্ত করে এসেছেন।

খ) ভাইবার দিনের বাংলা, ইংরেজী & আরবী সাল, তারিখ & মাসের নাম অবশ্যই পড়বেন। ভাইবার তারিখে কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু বা উল্লেখযোগ্য ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য পড়বেন। আপনার জন্ম তারিখের সাথে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম তারিখ সম্পর্কে পড়বেন। যে প্রতিষ্ঠানে ভাইবা দিতে যাচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠান ও সেই সেক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা নিয়ে যাবেন।

গ) নিজ জেলা ও নিজ উপজেলা সম্পর্কে অবশ্যই বিস্তারিত পড়বেন। নিজ জেলা ও উপজেলার খ্যাতির কারন, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি সম্পর্কে অবশ্যই পড়বেন। ভাইবায় বিতর্কিত কোন ব্যক্তির কথা ভুলেও বলবেন না।

ঘ) বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়বেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টসমূহ, পাওয়ার সেক্টর, মন্ত্রিপরিষদ ইত্যাদি সম্পর্কে অবশ্যই পড়বেন।

ঙ) ভাইবার দিনের জাতীয় পত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান শিরোনামগুলো সম্পর্কে একটু ধারনা রাখবেন। যদিও এখন এগুলো সম্পর্কে খুব একটা প্রশ্ন করে না।

উপর্যুক্ত (ক) থেকে (ঙ) নং বিষয়গুলো ভাইবার আগের দিনেই ডাইরিতে নোট করে প্রস্তুত করে রাখবেন। কারন পরবর্তীতে আবার কোন ভাইবা দিতে গেলে তখন শুধুমাত্র দেখে গেলেই হয়ে যাবে। ভাইবা সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন কোন ভুল থাকলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন শুধরে নিব ইনশাআল্লাহ। পোস্টটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

 

লেখকঃ

লেখকঃ

আজিমুল ইসলাম রাজু
উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পাওয়ার গ্রিড কোং অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিঃ
সাবেক­ উপ-সহকারী প্রকৌশলী
তিতাস গ্যাস, NWPGCL, DESCO (Reco)।