বুয়েট প্যাটার্ন যেমন হয় উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে

0

উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে যে সব পরিক্ষা সমূহ বুয়েটে অনুষ্টিত হয় তার প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন তুলে ধরা হল

বুয়েট প্যাটার্ন এ যারা অনেকদিন যাবত অনেক ভালো প্রস্তুতির পর পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষায় টিকতে পারছেন না এই লেখাটি শুধুমাত্র তাদের জন্য।
পাওয়ার +মেকানিকাল, অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট ভাইএরাও আইডিয়া নিতে পারেন এই পোস্ট থেকে।
আপনার চাকরি যেভাবে আল্লাহ রিজিকে রাখছে সেভাবেই হবে, তবে আপনার চেষ্টা টা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতে হবে।
এখানে একটা ছোট মেসেজ দিয়ে রাখি সেটা হলো বুয়েটের অল্প কয়েকটি পোস্টের জন্য জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর এর মত বড় একটা সার্কুলার হাত ছাড়া করবেন না।পিএসসি পাশাপাশি বুয়েট প্যাটার্ন হাতে রাখুন।
সবার কৌশল+ মতামত এক নাও হতে পারে।পোস্টটি দীর্ঘ হবার জন্য দুঃখিত।

আমি কঠোর পরিশ্রম এর পরিবর্তে কৌশলে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাসী।

চলুন আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে কৌশল গুলো কি কি সেটা আলোচনা করার চেষ্টা করি।

১।টপিক্স গুছাবেন যেভাবেঃ
প্রথম কথা হল বুয়েট প্যাটার্ন এর আমার ব্যক্তিগত থিম হলো আগে ভালোভাবে কমন টপিক্সগুলো পড়তে হবে।এরপরে ধীরে ধীরে টপিক্স বাড়াতে হবে কিন্তু প্রতিটি টপিক্স ছোট করতে হবে। কারন বুয়েটে কখন বড় ম্যাথ দেয়না ঘুরে ফিরে ছোট ম্যাথ গুলো দেয় তাই প্রয়োজনে টপিক্স বাড়িয়ে প্রতিটি টপিক্স এর ছোট ছোট ম্যাথ, সূত্রগুলো আয়ত্ব করতে হবে। এর অর্থ এই না যে সারা দুনিয়া পড়বেন আপনি।উদাহারণ স্বরুপ ধরুন বুয়েটের জন্য ফ্রিকশন সিঙ্গেল ব্লক দিয়ে থাকে এবং এর মধ্যেই ভাষাগত ভাবে জটিল করে। এরপরে সর্বোচ্চ হলে ডাবল ব্লক দিতে পারে এখন আপনি ত্রিপল বক্স,মই,ড্রাম সব সাইজের ম্যাথ পরীক্ষার আগে করতেছেন বুয়েটে কমন পাবার জন্য সেটা আসলে ভূল ধারনা। আবার ধরুন ট্রান্সফর্মার এর সাধারণ গুলো প্রাকটিস করা বাদ দিয়ে আপনি ২৪ ঘন্টার দক্ষতার ম্যাথ নিয়ে পড়ে থাকলে সেটা অবশ্যই বোকামীর পরিচয় হবে।অন্য সময়ে প্রাকটিসের জন্য করতে পারেন তাতে বেসিক ক্লিয়ার হবে তবে কমন পাওয়ার জন্য পরীক্ষার আগে করলে সেটা নিতান্তই বোকামি। ম্যাথমেটিকাল টার্মের সূত্রগুলো খুব খুব ভালো ভাবে মূখস্থ করবেন এবং খাতায় প্রাকটিস করবেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ম্যাথ ভূল হয় সূত্র মনে না থাকার কারনে।সূত্রগুলো বুঝে,এনালাইসিস করে মূখস্ত করবেন।

পরীক্ষার শুধুমাত্র 15 দিন 20 দিন আগে পরে কখনো পড়ে চাকরি পাওয়া যায় না। আপনাকে সারা বছর পড়াশোনা করতে হবে এবং পরীক্ষার আগের 20 দিন সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বই এর ম্যাথ গুলো বুঝে প্রাকটিস করবেন,পরীক্ষায় ভূল করার কারন হলো আপনি শুধু বই এর ম্যাথ গুলো মুখস্থের মত করে গেছেন কিন্তু সামান্য ঘুরিয়ে দেওয়ার ফলে সেটা পারেন নাই ভাই ভূল করেছেন।এজন্য বই এর বড় বড় অনেক ম্যাথ করার চাইতে একটা ছোট,মাঝারি সাইজের ম্যাথ করার পর সেটা নিজেই নতুন করে অন্য একটা মান চাইবেন, ঐ ম্যাথ থেকেই নতুন কোন প্রশ্ন বের করে সলভ করবেন তাইলে নতুন ম্যাথ করার ক্যাপাবিলিটি চলে আসবে আপনার মধ্যে।

পড়াশোনা শুধু বই এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবেনা।মানে অথোরিটি এর উপর বেজ করেও কিছু তথ্য জেনে যাবেন। যেমন ঃ পিজিসিবি মূলত ২৩০/১৩২,১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র পরিচালনা করে সেক্ষেত্রে আপনার এই দুইটার সিঙ্গেল লাইন অবশ্যই জেনে রাখা উচিত।আবার ডিস্ট্রিবিউশন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র পরিচালনা করে সেক্ষেত্রে এর ডায়াগ্রাম আপনার অবশ্যই জানা উচিৎ। কোন জেনারেশন কোম্পানি যেভাবে পাওয়ার জেনারেশন করে ঠিক সেই ডায়াগ্রাম গুলো আপনার জেনে যাওয়া উচিৎ। কারন এরকম দেয়না তবে দিলেও দিতে পারে।তো কিছু বিষয় বই এ পাবেন না তবে আপনার সেন্স দ্বারা প্রস্তুতি নিতে হবে।

যখন আপনি কোন একটা চ্যাপ্টারের ম্যাথমেটিকাল টার্ম গুলো করবেন খেয়াল করবেন যে ম্যাথ গুলো বেশি সমস্যা সেই ম্যাথগুলো দাগিয়ে রাখবেন এবং ঐ সকল স্পেশাল ম্যাথের স্পেশাল কিছু ট্রিকস আপনি আপনার সূত্রের খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন এতে পরীক্ষার আগে ঐ ম্যাথগুলো করলেও হবে বা না করে স্পেশাল ট্রিক্স টি দেখে যাবেন এতে আপনার দ্রুত সিলেবাস কভার হবে। পাশাপাশি সবগুলো সুত্র তো দেখে যাবেন অবশ্যই। ডায়াগ্রাম ও থিওরি গুলো আগে থেকেই চর্চায় রাখবেন। তবে পরীক্ষার ঠিক ৩ দিন আগ মূহুর্তে ম্যাথের থেকে সূত্রের দিকে বেশি সময় দিবেন।

২। কোশ্চেন এনালাইসিস :
কোশ্চেন এনালাইসিস পরীক্ষায় ভালো করার অন্যতম সেরা একটা ট্রিকস। ভেন্যু+অথোরিটি মিলে কোশ্চেন প্যাটার্ন নির্ধারণ হয়ে থাকে। বুয়েটের সব পরীক্ষায় সেম প্যাটার্ন হয়না।সাধারণত প্যাটার্ন তো ফলো করবেন এর পরে এনালাইসিসের দিকে গুরুত্ব দিবেন।উদাহরণ স্বরুপ: বুয়েটে ম্যাথের জন্য মাঝে মাঝে সাধারণ ম্যাথ দেয় মাঝে মাঝে এনালাইটিক এবিলিটি দেয়। এখন আমার ২০২১ এর ১২ মার্চ পিডিবির পরীক্ষা ছিল তার আগে সহকারী প্রকৌশলী দের পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে দেখলাম সাধারণ ম্যাথ গুলো দিয়েছে এজন্য আমিও সাধারণ ম্যাথ গুলো করলাম পরীক্ষাতেও সাধারণ ম্যাথ গুলো দিয়েছিল।ঐ সময় অনেকেই ইন্ডিয়া বিক্স করেছিল কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগ মহুর্তে ইন্ডিয়া বিক্স শেষ করে পুরো সিলেবাস শেষ করা অনেকটা সময়ের ব্যাপার ছিল বলে মনে হয়।
কিন্তু অন্যান্য পাওয়ার সেক্টর গুলোতে ঠিকই এনালাইটিক এবিলিটি দেয় ঐভাবেই প্রস্তুতি নিতে হয়৷

সেপ্টেম্বর এর ২৪ তারিখ মেবি পিজিসিবি ইলেক্ট্রিক্যাল দের পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে সাম্প্রতিক অনেক কোশ্চেন হয়েছিল সম্ভবত জুলাই (মাসের নামটা ঠিক খেয়াল নাই) এর কারেন্ট এফেয়ার্স থেকে হুবহু কমন ছিল। আমার পরীক্ষা ছিল ৩০ তারিখে(পাওয়ার) তো আমি জুন-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবগুলো কারেন্ট এফেয়ার্স সংগ্রহ করি তথ্যগুলো ২,৩ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট করে ফেলি এবং আমিও কোন এক মাসের কারেন্ট এফেয়ার্স থেকে ৮-১০ টা কোশ্চেন হুবহু কমন পাই। এইসব ব্যাপার গুলো আমার কাছে কোশ্চেন এনালাইসিস বলে মনে হয় আপনার কাছে কাকতালীয় মনে হতে পারে।এরকম ভাবে কোশ্চেন গুলো এনালাইসিস করলে আপনি পরবর্তী পরীক্ষার ব্যাপারে একটা আইডিয়া পাবেন। ডিপার্টমেন্ট এর প্রশ্ন এর ক্ষেত্রেও আপনি আগেরবারের কোশ্চেন ঐ সময় অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার কোশ্চেন গুলো ফলো করবেন এবং খুব ভালোভাবে করে যাবেন কারন বুয়েট রিপিট করে থাকে এবং ঐ ধরনের কোশ্চেন করেও থাকে।বিগত কোশ্চেন গুলো বিভিন্ন জব সলুশন বই বা গ্রুপে পাবেন।

৩। পরীক্ষার হল সামলানো ঃ
অনেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার পরেও ১ ঘন্টা সময় কাজে লাগাতে পারেনা।
পরীক্ষার হলে ১ ঘন্টা সময় আপনাকে মেপে ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে আপনি নন শুরু করবেন ম্যাথ বাদে যা আছে সব দাগাবেন,কনফিউশান গুলাও দাগাবেন কারন পরের বার দেখার সময় বুয়েট আপনাকে দিবেনা(নেগেটিভ মার্ক থাকেনা বুয়েটে)।নেগেটিভ বিহীন পরীক্ষায় সব গুলো এমসিকিউ না দাগাতে পারা চরম ব্যর্থতা। দাগানোর সময় অপশন গুলো ভালোভাবে চেক করে নিবেন।
এখন আপনি ডিপার্টমেন্ট যা যা পারেন সব গুলো দিবেন।প্রথমে প্রশ্নটি পড়বেন, বুঝবেন কি চেয়েছে সেটা আগে ভালোভাবে দেখবেন প্রশ্ন না পড়ার কারনে অনেকেই ভূল করে থাকে।পরীক্ষার হলে নতুন প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ানো যাবেনা। আমাদের পিজিসিবির পরীক্ষায় একটা চিত্রের মধ্য সংক্ষিপ্ত ডাটা সহ পাওয়ার সেক্টর এর মাস্টারপ্লান দেওয়া ছিল শুধুমাত্র ঐটা দেখে দেখে খাতায় লিখলেই ৪ মার্ক।অনেকেই নতুন ধরনের প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে গেছে প্রশ্নটি পড়েই নাই এবং পারেও নাই।কিন্তু ব্যাপারটা অতি মাত্রায় সহজ ছিল। আবার অনেক সময় বুয়েট প্রয়োজনের বাইরে ডাটা দিয়ে থাকে।আশুগঞ্জ এর পরীক্ষায় প্রবাহের ম্যাথে দুইটা নির্গমন দেওয়া ছিল আরেকটা নির্গমন বের করতে শুধুমাত্র বিয়োগ দিলেই অংক শেষ। এর মাঝে একটার ক্ষেত্রফল দেওয়া ছিল অনেকেই ঐটার বেগ বের করে আসছে।এইটা হচ্ছে কোশ্চেন না পড়া বা না বুঝার কারন।।
ক্যালকুলেটর ঠিকভাবে চেপে মান বের করবেন। ৫+৪ = ৯ সেটা পরীক্ষার হলে এলোমেলো হয়ে যায় তাই সব হিসাব ক্যালকুলেটর এ করার চেষ্টা করবেন।

মনে রাখবেন নন ডিপার্টমেন্ট এর উত্তর করার সময় প্রশ্ন স্কিপ করবেন না, টানা দাগিয়ে যাবেন।আর ডিপার্টমেন্ট এর উত্তর করার সময় দ্রুত স্কিপ করবেন। কারন হলো নন ডিপার্টমেন্ট যেটা আপনি পারেন না সেটা আগেও পারেন নাই পরেও পারবেন না।কিন্তু ডিপার্টমেন্ট এর একটা জানা ম্যাথ ঠিক ঐ সময়ে ভূলে যেতেই পারেন খুবই স্বাভাবিক। এজন্য প্যানিকড হওয়া যাবেনা তখন সেটা স্কিপ করে অন্য কোশ্চেনে যেতে হবে।এবার অন্য একটা উত্তর করে আসলে আগের ম্যাথটি দেখবেন মনে পড়ে গেছে।যদি ঐটা নিয়েই পড়ে থাকেন প্রথমত আপনার টাইম লস হবে দ্বিতীয়ত প্রশ্নটি না পারার যন্ত্রণা ফিল হওয়া শুরু করবে যা পুরো পরীক্ষার উপরে প্রভাব ফেলবে। তাই আপনি প্রশ্নটি পারেন নাই বা মনে পড়তেছেনা এইটা একটা সমস্যা সেটা ফিল হবার আগেই স্কিপ করবেন।
এবার ডিপার্টমেন্ট যা পারেন শেষ করবেন করে আবার জেনারেল ম্যাথ করবেন পারা না পারা সবগুলা দাগাবেন।সব শেষ ডিপার্টমেন্ট যা পারেন দিবেন।
পরিচিত অনেক বড় ভাই আছেন যাদের কাছে আমার এই লেখাটি অতি তুচ্ছ, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
উৎসাহ পেলে নন টেক নিয়ে লেখার চেষ্টা করব।

লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভূল ত্রুটি মার্জনীয়।

লেখক

প্রকৌশলী সজিব আহমেদ