রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের কারবার, মানবপাচার, খুন, অপহরণ, ডাকাতি, চুরি, আধিপত্য বিস্তার, সাইবার ক্রাইম, যৌন নির্যাতন, অবৈধ সিম বাণিজ্য, স্থানীয়দের জমি দখল, হুন্ডি, জাল টাকার কারবার, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলাসহ  কোনো অপরাধ নেই যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে না। 

 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। তাই ড্রোন ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রোহিঙ্গা শিবিরে গত ৬ বছরে খুন হয়েছে ১৬১ জন। ক্রমে বেপরোয়া হয়ে ক্যাম্পগুলি  অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে।রোহিঙ্গা শিবিরের পর এবার আধুনিক ভাসানচর ক্যাম্পে গিয়েও খুনোখুনি থামছে না রোহিঙ্গাদের মধ্যে।

 

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৩২টি শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের নিত্যনতুন এ অপরাধের চিত্র। রোহিঙ্গারা শুধু নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি নয়, তাদের হামলায় কয়েক জন বাংলাদেশিও নিহত হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণের শিকারও হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফে এখন রোহিঙ্গারাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। বাংলাদেশিরা সেখানে এখন সংখ্যালঘু। সে কারণেই শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি কত দিন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।

 

 

২০১৭ সালে মায়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে হাজারে হাজারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয়ের পর রোহিঙ্গাদের একাংশ ইয়াবা কারবার, অপহরণ, দেহ ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এরপর রয়েছে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি।

সর্বশেষ গত দুই-আড়াই মাসে মিয়ানমার ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) দুই নেতাসহ অন্তত পাঁচ জন খুন হয়েছে। এদের মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে নুরুল আমিন নামের এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়। জানা গেছে, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের আই ব্লকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

 

ভাসানচর থানার ওসি মহম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, নিহত জাহিদ ৮ জুন ভাসানচরে নিজের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।অনেক খোঁজাখুঁজির পরও জাহিদকে না পেয়ে তার স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। ১২ জুন ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে তাঁর লাশ উদ্দার হয়।

তদন্তে পুলিশ জাহিদের ব্যবহৃত মোবাইল-সহ আবদুল্লা নামের একজন ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুই কিশোরকে আটক করে।