ভিপি নুরের পকেটে মোসাদের টাকা!

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বৈঠক নিয়ে তার রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদে চলছে তোলপাড়। ওই বৈঠক শেষে নুর মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ তারই দলের সদস্যরা। তাদের দাবি, দলের নামে তহবিল এনে কাতারেই এক প্রবাসীর গাড়ি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে সেই টাকা। শুধু তা-ই নয়, নুরের বিরুদ্ধে দেশের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বিভিন্ন ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ, দলের জন্য প্রবাসীদের দেওয়া টাকার হিসাব না দেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনেছেন দলের কয়েকজন নেতা।

গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত গণঅধিকার পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে তুলকালাম হয়ে গেছে। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে নুরের অনুগত কয়েকজন দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার দিকে তেড়ে যান বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

ঘটনার জেরে দলটির প্রধান নির্বাচন ব্যবস্থাপক এবং গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান জাকারিয়া পলাশ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সভায় বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।

সূত্র জানায়, গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বর সেক্টরের ৫৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়িতে দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠক বসে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বৈঠকে আসেন সাড়ে ৮টার দিকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, ৭টার বৈঠকে কেন সদস্য সচিব সাড়ে ৮টায় উপস্থিত হবেন? এর পর থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে। যার রেশ থাকে শেষ পর্যন্ত। রাত ৯টা নাগাদ এক পর্যায়ে রাগ করে উঠে বাসায় চলে যান রেজা কিবরিয়া।

বৈঠকে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুহিন প্রশ্ন রাখেন, ‘যদি সংগঠনের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবের দ্বন্দ্ব মেটাতে অন্যদের আসতে হয়, তাহলে সংগঠন চলবে কী করে! তিনি বলেন, পুরোপুরি গঠনতন্ত্র অনুসারে দল চললে কেউ কোনো ধরনের প্রশ্ন তুলবে না। তিনি বলেন, অনেক আর্থিক বিষয়ের প্রশ্ন আসছে। স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ে বাইরে যারা জানে, তারা ছি ছি করছে। কিছুদিন পরে আমাদের থুথু মারবে।’

আলোচনার এক পর্যায়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক নুরের ইসরায়েলি এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের নামে প্রবাস থেকে আসা টাকার হিসাব কোথায়? কেন নুর ইসরায়েলি মেন্দি এন সাফাদি ও তার ‘বাংলাদেশি বন্ধু’ শিপন কুমার বসুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন?”

এসব নিয়ে বৈঠকের পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর আরও কয়েকজন নেতা নুরের টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এ সময় রেজা কিবরিয়া নুরের উদ্দেশে বলেন, ‘দুবাইয়ে মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে মিটিং করতে নুর ট্যাক্সি দিয়ে যাননি। তাকে আমাদের লোক (দুবাইয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা) গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেছেন। তারাই কনফার্ম করেছেন যে, এ রকম মিটিং হয়েছে এবং মিটিং শেষে তিনি (নুর) একটা কালো ব্যাগ নিয়ে ফিরেছেন। তবে কালো ব্যাগে কী ছিল, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমাদের প্রশ্ন হলো, তুমি ইসরায়েলিদের সঙ্গে মিটিং করছ, এটার কারণ কী? কারণটা আমাদের বলো?’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘নুর এত গাড়ি কোথায় পায়! এর আগে বলা হয়েছিল কাতারের সভাপতি গাড়ি দিয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। কাতারের সভাপতি কেন গাড়ি দেবে? তাহলে কি সংগঠন অন্যদের মতোই হবে। এরপর যে নেতা হবে, সে-ও এ রকম গাড়ি পাবে। গাড়ি দিলে, তাকে কেন সভাপতি বানাতে হবে। সভাপতি বানানোর বিনিময়ে গাড়ি কেন নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুসারে বিদেশের কমিটি দুজনের দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে সব কমিটি একাই করছ। লাখ লাখ টাকা আসে, সেই টাকা তুমি কী করো? এক টাকাও তো দলে দাও না।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘তুমি এর আগে দেশের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীকে ফুল দিয়ে এসেছে। তার থেকে কয় টাকা খেয়েছ?’

তখন নুর বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ আমাকে গাড়ি দিতে পারে। আমি পার্টির প্রেসিডেন্ট না। কিন্তু আমি ডাকসুর সাবেক ভিপি। আমার পরিচিত আছে।’

এ সময় আর একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘কাতারে গাড়ির ব্যবসা রয়েছে নুরের। এ ছাড়াও দেশে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ও টাকা খাটাচ্ছেন। বিদেশ থেকে আসা টাকার কোনো হিসাব দিতে চান না। দল তো কারও একার নয়, স্বচ্ছতা না রেখে এভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে লেনদেন হতে পারে না।’

এসব বিষয়ে নুর তার বক্তব্যে সাফাদির কাছ থেকে টাকা আনার বিষয়টি অস্বীকার না করে বলেন, ‘বিভিন্ন স্থান থেকে টাকা আনি দলের জন্য। তা দলের পেছনেই ব্যয় করি। কাতারে আমার কোনো ব্যবসা নেই। সেখানে পরিচিত একজন ব্যবসায়ীর গাড়ির শোরুম রয়েছে। তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম এ পর্যন্তই।’

এমন বক্তব্যের এক পর্যায়ে যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ রেজা কিবরিয়ার কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘রেজা কিবরিয়া প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা করে নেন ইনসাফ কমিটি থেকে। আর এই টাকার বিনিময়ে তিনি গণঅধিকার পরিষদকে তাদের পক্ষে কাজ করানোর চেষ্টা করেন।’ তবে রেজা কিবরিয়া তাৎক্ষণিক এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এক পর্যায়ে আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া দলের অর্থ বিভাগের প্রধান শহিদুল হক ফাহিমের কাছে আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকার যদি কখনো কোনো সংস্থা দিয়ে আর্থিক বিষয়গুলো অডিট করায়, তখন মামলা খেতে হবে। তুমি দলকেও বিপদে ফেলবে।’

বৈঠকের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. শামসুদ্দীন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের দলের দুই শীর্ষ নেতার একজন কি তাহলে সিআইএর, একজন মোসাদের। আমরা দল তাহলে কার জন্য করছি! বাংলাদেশের রাজনীতি না করে আমরা কি সিআইএ এবং মোসাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছি।’

এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রেজা কিবরিয়াকে মারতে উদ্যত হন গণঅধিকারের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব পোদ্দার এবং অর্থ বিভাগের প্রধান শহিদুল হক ফাহিম।

যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, রাশেদ খান, ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রহমান পরিস্থিতি শান্ত করতে উদ্যোগী হন। এ অবস্থায় রেজা কিবরিয়া বৈঠক ত্যাগ করেন।

রেজা কিবরিয়া চলে যাওয়ার পরে তার প্রতি অনাস্থা এনে রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করা হয়। তখন দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও বৈঠকের সঞ্চালক জাকারিয়া পলাশ বলেন, ‘অনাস্থা প্রস্তাব আনতে গঠনতন্ত্র অনুসারে দুই-তৃতীয়াংশ কাউন্সিলরের সমর্থন লাগবে। আপনারা সেটা না করে এভাবে করতে পারেন না।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে সদস্য সচিব নুর ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন।

গণঅধিকার পরিষদের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক অভিযোগ করে কালবেলা বলেন, ‘এর আগেও নুর একটি দেশের তথাকথিত এজেন্ট মাসুদ করিমের থেকে ১ কোটি টাকার চেক ও ৩০ লাখ নগদ টাকা গ্রহণ করেন। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া হওয়ায় ওই চেক এবং ২০ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। একটি গাড়িও নেওয়া হয়েছিল। যার জের ধরে তখন নুরকে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে বহিষ্কার করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান। তখন সংগঠন ভাঙনের মুখে পড়লে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মধ্যস্থতায় সমস্যা সমাধান হয় এবং নুরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ডাকসুতে হামলার পর আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গেলে তাদের চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকা দেন। সেই টাকা নুর চিকিৎসা বাবদ ব্যয় করেননি। হিসাব চাইলে নুর জানান, ‘টাকা হারিয়ে গেছে।’

এর জের ধরে তখনো তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে ছাত্র অধিকার পরিষদের মধ্যস্থতায় নুর দায়িত্বে অবহেলার জন্য ক্ষমা চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।

এদিকে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের আলোচনায় মোসাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান কেন্দ্রীয় নেতারা।

কালবেলার হাতে আসা ওই আলোচনার স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, সেখানে কেন্দ্রীয় নেতা রেদওয়ানুর রহমান বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের পুঁজি হলো পাবলিক পারসেপশন। মানুষ যদি জানে মোসাদের সঙ্গে আঁতাত আছে, তাহলে পাবলিক আমাদের ছাড়বে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা লাগে, সবার সামনে মাথা হেঁট হয়ে যাবে।’

সহকারী আহ্বায়ক তামান্না ফেরদৌস শিখা বলেন, মোসাদের সঙ্গে এমন আঁতাতের বিষয় মানুষ জানলে পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু, এলাকাবাসী আমাদের জুতাপেটা করবে। কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম শোয়াইবি বলেন, এসব দেখতেছি আর চোখ বেয়ে পানি পড়তেছে। বুক ফেটে চিৎকার বেরিয়ে আসছে।

যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আমরা হয়তো সবাই জানতাম। কিন্তু এভাবে দাম্ভিকতা নিয়ে প্রত্যেকে স্বীকার করবে, এই প্রত্যাশা করিনি। খুব কষ্ট লেগেছে। এদের জন্য আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছি। আমার মাথা বিক্রি করে কেউ টাকা কামাবে, এটা কীভাবে হয়!

সার্বিক বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণে টাকা দেয়। অনেক দেশে কমিটি আছে। কিন্তু সেই টাকা যথাযথভাবে সাংগঠনিক কাজে ব্যয় হয় না। সব টাকা নুরের কাছে আসে। কোনো হিসাব দেয় না। দলের কাছে কোনো টাকা নেই। এমন আর্থিক অস্বচ্ছতা থাকলে সেই দল করে লাভ কী! অন্য দলের সঙ্গে তাহলে পার্থক্য কী!’

তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ে ইসরায়েলি এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে নুর বৈঠক করেছে। সেখানে নুরের কাজ কী! আমরা তো মজলুমের পক্ষে থাকব। ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকব। নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দেখা করেছে।’

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘নুরকে আমাদের দলের নেতারাই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেছে, তারাই বলছে, মেন্দি এন সাফাদি একটা কালো ব্যাগ দিয়েছে নুরকে। সেই ব্যাগে কী ছিল! সেই উত্তর দিতে পারেনি নুর। না হলে দেখা করল কিসের লোভে! অর্থ ছাড়া অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে না।’

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি ইনসাফ কমিটির অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলাম, এটাতেই নুরের আপত্তি। আমি সরকারবিরোধী যে কোনো প্ল্যাটফর্মেই যাই। বক্তব্য দেই। এটা তো দোষের কিছু না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মূলত গণঅধিকার পরিষদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। তাই নুর ইনসাফ কমিটির বিষয়টি সামনে এনেছে। এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চায়।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিদেশের রাজকীয় জীবন ছেড়ে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এসেছি। কিন্তু এরা নিজেরাই অস্বচ্ছ। আর এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এখন নুর চায় আহ্বায়ককে সরিয়ে দেবে!’

এ বিষয়ে জানতে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরকে ফোন দেওয়া হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন এবং কিছুক্ষণ পরে ফোন করার অনুরোধ করেন। এরপর বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব দেননি। তবে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট পরিচয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় জনৈক মাসুদ করিম বা এনায়েত করিমের বিএনপি ভাঙা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আব্দুস সাত্তার মডেলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কথিত সরকারবিরোধী প্রোগ্রামের নামে রেজা কিবরিয়া ব্যাংকক, কাঠমান্ডুতে একাধিকবার মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এবং দেশে এসে মনোনয়ন বিক্রি ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ ইনসাফের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের বিষয়ে রেজা কিবরিয়ার বাসায় জরুরি মিটিংয়ে এসব বিষয়ে জবাবদিহিতা চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে বিরক্ত হয়ে বাসার ছাদের মিটিং স্থান ত্যাগ করে আর মিটিংয়ে আসেননি। কিন্তু নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য ও মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন নুর।

সূত্র: কালবেলা
২০ জুন ২০২৩