সংবাদকর্মীর বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন, সপরিবারে হত্যা চেষ্টা

কক্সবাজারে নিজের বোনের ইজ্জত রক্ষায় ‘ইভটিজার’কে বাধা দেয়ায় সংবাদকর্মী আসিফ বাপ্পি ও তার পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির গেইটে তালা লাগিয়ে, পুরো বাড়িতে পেট্রোল স্প্রে করে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

সোমবার (১৯ জুন) রাত আড়াইটার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার আসিফ বাপ্পি ওই এলাকার নজির আহমদের ছেলে ও কক্সবাজার থেকে প্রচারিত অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজ চ্যানেল ‘ডিএনএন’ এর সংবাদ বিভাগের সমন্বয়কারি।

ওই আগুনে দুইতলা পুরো বাড়ি পুড়ে গেলেও এলাকাবাসি ও ফায়ার ব্রিগেডের প্রচেষ্টায় প্রাণে বেঁচে যান সংবাদকর্মী আসিফ বাপ্পি ও তার পরিবারের দুই বছর বয়সী শিশুসহ ৪ জন।

 

 

সংবাদকর্মী আসিফ বাপ্পির পুড়ে যাওয়া ঘর ও আসবাবপত্র

 

আসিফ বাপ্পি বলেন, আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। দীর্ঘ প্রায় দেড়ঘন্টা পর এলাকাবাসি ও ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরা দু’তলার জানালা ভেঙ্গে আমাদের উদ্ধার না করলে আমার দুই বছরের ভাতিজীসহ ঘরে থাকা চারজনই মারা যেতাম।

তাদের অভিযোগ, শাকিল নামের ওই বখাটে সানজানা আহমেদ সাইবা’র পিছু ছাড়েনি। প্রতিনিয়তই সে তাকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিল। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ওই হুমকি দেয়ার কয়েকদিনের মাথায় ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটলো।

অভিযোগে বলা হয়, রাত দুইটার দিকে তারা ঘরের আশপাশে পেট্রোলের গন্ধ পান। কিন্তু ওটাকে পাশের ড্রেনের গন্ধ মনে করে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় ঘরে ছিলেন সংবাদ কর্মী আসিফ বাপ্পি, তার বড় ভাই আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বাবু, বাবুর স্ত্রী সুমি আকতার ও তাদের দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান আনাদিয়া।

রাত আড়াইটার দিকে প্রতিবেশীদের আগুন আগুন চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে আসিফ বাপ্পির। তখন দেখতে পান বাড়ির নিচতলা থেকে আগুন দু’তলায় চলে এসেছে। ওই সময় বাপ্পি তার বড় ভাইয়ের রুমের দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে তাদের জাগিয়ে তুলেন। কিন্তু আগুনের কারণে তারা কেউই বাড়ির নিচে আসতে পারছিলেন না। তারা একটি রুমে আটকা পড়েন। পরে এলাকাবাসি ও ফায়ার ব্রিগেডের লোকজন এসে ওই রুমের জানালা ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করেন।

পরে দেখা যায়, বাড়িতে আগুন দেয়া দুস্কুতিকারিরা বাড়ির মূল গেইটে তালা লাগিয়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। জানালা ভেঙ্গে উদ্ধার করা না গেলে হয়তো তাদের মৃত্যু হতো।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ বাপ্পি জানান, আগুনে পুড়ে বাড়ির সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়িতে তার নগদ ৪ লাখ টাকা গচ্ছিত ছিল। সেই টাকাও উদ্ধার করা যায়নি। ভাবির স্বর্ণালংকারও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় বোন সানজানা আহমেদ সাইবা বাবা নজির আহমদ সওদাগর ও মা সুমি আকতারকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বখাটে শাকিল কয়েকদিন আগে ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে। ঘটনার আগে তাকে ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ওই বাড়ির কাছাকাছি দেখা গেছে। তাছাড়াও ওই বখাটে ছাড়া তাদের সাথে আর কারো সাথে কোন বিরোধ নাই।

তারা এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান সংবাদকর্মী আসিফ বাপ্পি।