টানা বর্ষণে ফের বন্যার আশঙ্কা পেকুয়ায়

মোহাম্মদ রিদুয়ান

চারদিনের টানা বৃষ্টিতে ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়ায়। বৃষ্টির পরিমাণ এভাবে চলতে থাকলে আবারো বড় ধরণের বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। বন্যায় জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই এ যেনো ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

এই বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর’। এদিকে টানা বৃষ্টিতে মাছের ঘের, পুকুর আর খালের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মনে অতি বর্ষণে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ভয় বিরাজ করছে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে পেকুয়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিলো, যার প্রধান কারণ ছিলো ‘টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকা’। ফলে, পাহাড়ি ঢল লোকালয়ে প্রবেশ করে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপজেলার প্রায় সব মানুষ।

উপজেলার পেকুয়া সদর, শিলখালী, বারবাকিয়া ও টেটংয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি ছিলো। পেকুয়া সদরে প্রায় ১৫ হাজার বসতঘর, অবকাঠামো, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, দোকানপাট পানিতে নিমজ্জিত ছিলো। বসতঘর নষ্ট হওয়ায় পানি নামার পরও এসব পরিবার কোথায় থাকবেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই ফের বন্যার শঙ্কা।

ঘন ঘন বেড়িবাঁধ ভেঙে বন্যা হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এক স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, “শুধুমাত্র মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি এবং শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করা ভাঙনের প্রধান কারণ”।

শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে আগামীতে বেডিবাঁধ ভাঙন অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মনে করেন অনেক স্হানীয় বাসিন্দা। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলো অনেক পুরোনো, নিকট অতীতে সংস্কারও হয়নি। এ কারণে অনেক আগে থেকেই এই ইউনিয়নটি বন্যার ঝুঁকিতে আছে। ফলশ্রুতিতে এলাকাবাসীর একটাই চাওয়া, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা’। আর তাই অতীতের ন্যায় ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চান পেকুয়াবাসী।